ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি মুনের

ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন কোনোভাবেই ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার তাকে বহিষ্কারে সংগঠনের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রলীগের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান মুন।

তিনি বলেন, “সম্প্রতি কবি সুফিয়া কামাল হলের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমাকে অগঠনতান্ত্রিকভাবে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।” কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত ১০ এপ্রিল সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ওই হল ছাত্রলীগের সভাপতি এশাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ছাত্রলীগ তদন্ত করে এশার বিরুদ্ধে সত্যতা না পাওয়ার কথা জানিয়ে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। সেদিন এশাকে হেনস্তার অভিযোগে এরপর মুনসহ ২৪ জনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

এশার আগে ওই হলে ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা মুন বলেন, “যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেই তদন্ত কমিটি তদন্তকালীন সময়ে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা আমার বক্তব্য নেয়নি। ফলে আমার দোষ কী, তা নিয়ে আমি অন্ধকারে রয়েছি।” তিনি বলেন, “ওই ঘটনায় হল সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তাতে আমিও ব্যথিত হয়েছি। এই ঘটনায় প্রকৃত দোষী যারা, তাদের শাস্তি দাবি করছি।

“কিন্তু যে ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, সেখানে অসম্পূর্ণ তদন্তে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার যে সম্মানহানি করা হয়েছে, তা পুনরায় তদন্ত সাপেক্ষে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।” মুন বলেছেন, সেদিন তিনি হলেই ছিলেন না। বহিষ্কৃত আরও একজন রয়েছেন বিদেশে।

“আমি ছাড়াও যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তালিকায় তাদের পূর্ণ নাম নেই, এমনকি কয়েকজনের বিভাগের নামেও ভুল। এ থেকে বোঝা যায়, ঠিকভাবে তদন্ত না করে অনুমানের ভিত্তিতেই বহিষ্কার করা হয়েছে।

“বহিষ্কৃতদের মধ্যে মনিরা নামের একজন ঘটনার আগে থেকে এখন পর্যন্ত ভারতে রয়েছে। আর আয়েশা সিদ্দিকা আশা নামের একজন ঘটনার আগে থেকে হাত ভেঙে যায়। তারা কীভাবে এই ঘটনায় সম্পৃক্ত হন?”