বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া  বিনিয়োগ করলে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে লন্ডনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারপ্রধানদের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাতে বাসস জানায়, কমনওয়েলথ দেশসমূহের ১৩ সরকারপ্রধান গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের বিশেষ করে আজ এখানে উপস্থিত বিশ্বের ব্যবসা খাতের নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। নিশ্চিত থাকুন, আপনারা এশিয়ার সবচেয়ে গতিশীল এফডিআইবান্ধব সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, কমনওয়েলথভুক্ত সব দেশে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করার ক্ষেত্রে কমনওয়েলথ বাস্তব সহযোগিতা দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৯ কোটি মধ্যবিত্ত ভোক্তা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপানের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার। যে কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে এশিয়ার পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে রিব্র্যান্ডিং করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

শেখ হাসিনা জানান, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০১৫ সালে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আমার সরকারের গৃহীত নীতি-কৌশলসমূহ বাস্তব ফল দিচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কমনওয়েলথ সদস্য দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বেসরকারি অংশীদারিত্ব আশা করে। সরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে পণ্য উৎপাদন করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এসএমই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং রফতানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি চালিকাশক্তি।

শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বের জন্য বাংলাদেশ সবসময় আইন ও স্বচ্ছতাভিত্তিক ইনক্লুসিভ এবং অবাধ বহুমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দোহা উন্নয়ন রাউন্ড সংলাপের অগ্রগতি থমকে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে উন্নয়নশীল দেশের গ্রুপে যোগ দিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তার পরও ডব্লিউটিওর ১১তম মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় আমরা লক্ষ্য করেছি, বহুমুখী বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে আশু কোনো অচলাবস্থা কেটে যাওয়ার আশাও ম্লান হয়ে যাচ্ছে।