দরিদ্র কৃষকের মেয়ে রুপা এখন ইয়াবা রানী ‘আনজু ভাবি’!

মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা ইয়াবা বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মাদকের জগতে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। একই সাথে স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ আয়ের জন্য এই ভয়ঙ্কর মাদককে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করতে থাকে অপরাধ জগতের একটি বিরাট অংশ। এমনি একজন দরিদ্র কৃষক আবদুল বাতেনের মেয়ে রুপা ইসলাম।

একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্নে বছর পাঁচেক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরা থানার ছলিমাবাদ গ্রামে থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। পেশা হিসেবে প্রথমে পোশাককর্মী হিসেবে কাজ শুরু করলেও একটা সময় অধিক অর্থ আয়ের লক্ষে জড়িয়ে পরেন মাদকের ছোট ছোট চালান আনা নেওয়ার কাজে। সেখানে পরিচয় হয় মাদক ব্যবসায়ী আল আমিনের সঙ্গে। যোগাযোগ হতে থাকে গুলশান-বনানীর উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের সাথে। আর এই তরুণ-তরুণীদের হাত ধরে ঢাকার রঙ্গিন জীবনের প্রবেশ ঘটে রুপার।

একটা সময় নাইট ক্লাব ও বিশেষ ডান্স পার্টিতে নিয়মিত হয়ে উঠেন তিনি। এর পাশাপাশি ঢাকার কিছু মডেলিং হাউজের সাথেও নিয়মিত উঠা বসা শুরু করেন তিনি। আর এই মডেলিং সাথে থেকে র‍্যাম্পে মডেলদের কাছে ইয়াবা বিক্রি শুরু করেন রুপা। এমনি এই গ্রুপের হাত ধরে বেশ কয়েকবার র‍্যাম্পেও হাটা হয় তাঁর। এভাবে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে ক্রেতা বানিয়ে নেন তিনি।

মূলত কক্সবাজারের থেকে আটক ইয়াবা বিক্রেতার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি পুলিশের হাতে রুপা ও তার দলের তথ্য আসে।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল আজাদ জানান, গুলশান-বনানীতে যত মাদক কেনাবেচা হত তার একটি অংশ আসত রুপার কাছ থেকে।

তিনি আরও জানান কক্সবাজারে গ্রেফতার ইয়াবা ব্যবসায়ী নূরুল হকের ডায়েরিতে রুপার সঙ্গে লেনদেনের তথ্য ছিল। সেই সূত্রে তারা রুপার ব্যাপারে খোঁজ করে জানতে পারেন যে, রুপা আগেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

এরপর রুপাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা কেনাবেচার কথা স্বীকার করেন রুপা।এসময় তিনি আরও জানান, পল্লবীর মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট জনি টেলিকমের মালিক আবদুর রহিম ওরফে জনি ও সেনপাড়া পর্বতার মরিয়ম টেলিকমের মালিক আবদুল কুদ্দুসের মাধ্যমে টেকনাফে নূরুল হকের কাছে টাকা পাঠাতেন তিনি।  আর টাকা পাওয়ার পরে টেকনাফ থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন যানবাহনে তার কাছে ইয়াবা পাঠাতো নূরুল হক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সহায়তা সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে এই চক্রের ৬৬ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ । আরও কিছু লেনদেনের হিসাব-নিকাশ চলছে। এই তদন্তে করেছে।

ফয়সল আহমেদ ও আবদুল কুদ্দুস ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তারা ইয়াবা-বাণিজ্যের কথা স্বীকার করেন।

রুপার সেনপাড়া পর্বতার বাসায় গেলে জানা য়ায়, সে এলাকার লোকজনের কাছে আনজু এবং ‘আনজু ভাবি’ নামে মাদক ক্রেতারাদের কাছে পরিচিত ছিলেন।

বাসার এক বাসিন্দা জানান, ওই বাসাতে আনজু ভাবির পরিবারের কেউ থাকে না এখন।  তাকে  গ্রেফতারের পরে আত্মীয়স্বজনরা ওনার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে গেছে।