‘আমি বাংলাদেশ বিমানের মন্ত্রী না, বেসরকারি যারা তাদের মন্ত্রী’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে তার পদে পুনর্বহাল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল বলেছেন, ‘আমি বিমানমন্ত্রী। আমি বাংলাদেশ বিমানের মন্ত্রী না। আমি হচ্ছি— বেসরকারি যারা, রিজেন্ট আছে, ইউএস-বাংলা আছে, নভো, ইন্ডিগো, আমি তাদের মন্ত্রী।’

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) আয়োজিত ‘ফ্লাইট সেফটি: দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শাহজাহান কামাল বলেন, ‘আমি দুঃখ প্রকাশ করছি— বাংলাদেশ বিমান। কদিন আগে আমার সঙ্গে কাতার এয়ারলাইন্সের লোকজন দেখা করেছিল। তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তাদের পপুলেশন কত? তারা জানালো— ২৭ লাখ। কিন্তু তাদের এয়ারক্রাফটের সংখ্যা কত? প্রায় ১৪৬টি, তারা জানালো। ছোট্ট একটা দেশ, তারা এত উন্নত হতে পেরেছে। আর আমরা, বাংলাদেশ বিমান এত পেছনে পড়ে কেন? আমরা কেন এগুতে পারছি না?’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা বীরের জাতি। আমি সরকারের লোক, সরকারি দলের প্রতিনিধি। আমি দেখেছি, এভিয়েশন খাতে আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে যারা, তারা ভালো করছেন। ইউএস-বাংলার অ্যাকসিডেন্টের বিষয়ে এখন তো বলতে পারবো না, কার দোষ। ইনকোয়ারির পর আমাদের কাছে রিপোর্ট আসবে। প্রধানমন্ত্রী (নেপালের) বলেছেন— ‘আমি এই মুহূর্তে বলতে পারি না। ইনকোয়ারির পর যেটা আসে, সেটাই করবো।’ অ্যাকসিডেন্ট তো হবেই। ট্রেনও অ্যাকসিডেন্ট হয়।’

শাহজাহান কামাল আরও বলেন, ‘আরেক ভাই বলেছেন যে, শাহজাহান খান হলেন লঞ্চের মন্ত্রী, পানির মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, আর আমি হলাম আকাশ মন্ত্রী। আমাকে বিমানমন্ত্রী বলা হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে বিমান কোম্পানি হয়, প্রাইভেট সেক্টর বলা চলে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করে দেওয়া হয়েছিল। কেন করে দেওয়া হয়েছিল, সরকারের যখন এটা চালানোর সক্ষমতা নেই, কিন্তু আপনারা (অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিমান কর্মকর্তা) তো সেটা দেখাতে পারলেন না।

২০০৭ সালের পরে আজকে ২০১৮ সাল, এখন পর্যন্ত শুধুই লসই দিচ্ছেন। টিকিটের জন্য গত সপ্তাহেও আমাকে বলা হয়েছে। আপনাদের কাছে টিকিট আছে, আপনারা প্যাসেঞ্জারকে বলেন যে, টিকিট নাই। এই যে চুরি, এই যে ডাকাতি, এটা কেন হচ্ছে। এর জন্য কারা দায়ী? আমার কাছে গতকালকে (মঙ্গলবার) একজন প্যাসেঞ্জার বলেছেন, উনি (প্যাসেঞ্জার) লন্ডনে যাবেন। উনি টিকিট চেয়েছেন, কিন্তু টিকিট নাই। পরে আকাশে ওড়ার আগে একজন প্যাসেঞ্জার বললো, বিজনেস ক্লাসের ছয়টা সিট খালি আছে। এটা বিশ্বাসঘাতকতা জাতির জন্য। এটা মুনাফিকি, এই দুষ্কৃতিকারী কেন হচ্ছে।’

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাকে বিমানমন্ত্রী বলা হয়। আমি দুঃখের সঙ্গে বলি, আমার কী দায়িত্ব আছে। গতকাল বিমানের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরকে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে— আমি জানি? আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে? একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করলে অন্তত আমার স্যাটিসফেকশন হতো। ১০ বছর করুক, আমাকে তো জিজ্ঞাসা করা হয়নি। আমি বিমানমন্ত্রী, আমি বাংলাদেশ বিমানের মন্ত্রী না। আমি হচ্ছি— বেসরকারি যারা, রিজেন্ট আছে, ইউএস-বাংলা আছে, নভো, ইন্ডিগো, আমি তাদের মন্ত্রী। এটা শুনলে প্রধানমন্ত্রী হয়তো আমার ওপর রাগ করতে পারেন।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাহেবকে তার পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে, আমি কি তা জানি? আমাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছে? হ্যাঁ একবার জিজ্ঞাস করলেও তো অন্তত আমার সেটিসফেকশন হতো। যে এমডিকে আগামী এক বছরের জন্য এক্সটেনশন করা হলো অথচ আমার সঙ্গে আলোচনা করা হলো না।

বিমানের লোকেরা টিকিট চুরি করেন যাত্রীদের এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বিমানকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে। এই টিকিট চোরদের ধরা হবে।

শাহজাহান কামাল বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে গেলে টিকিট পাওয়া যায় না, বিমানের লোকেরা টিকিট চুরি করেন বলে যাত্রীদের অভিযোগ। এই টিকিট চোরদের ধরা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক এর ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার চৌধুরী জিয়াউল কবির, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ-আটাব সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও ইমরান আসিফ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা- সিসিও হানিফ জাকারিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোমিন, পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন প্রমুখ।