রাজনৈতিক কারণে জেলে আছেন খালেদাঃ আমীর খসরু

বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যখন অজ্ঞাত কারণে পিছু হটবে তখন প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, লেভেল প্লেয়িং বলতে সব দলের সম অধিকার নিশ্চিত করাকেই বুঝায়। কিন্তু গণতন্ত্রের মাকে জেলে রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য নির্বাচনী আলোচনা হতে পারে। তবে এখন নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপট সরকার বন্ধ করেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির সামনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। এরমধ্যে একটি সেনা মোতায়ন। কেননা দেশে নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাসের মোকাবেলা করতে হয়। ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করে ভোট নেয়ার যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছে সে কারণেই সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।

খসরু বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিচারিক কোনো রায়ে নয়, রাজনৈতিক কারণে জেলে আছেন। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকা সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেখতে চাচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তার চিকিৎসা হবে কি না এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটাও বলা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করবেন না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা না দেয়ার পেছনেও ষড়যন্ত্র আছে। স্বৈরাচারদের ইতিহাসে এগুলো আছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা শুধু জেলেই পাঠায় না। শারীরিকভাবে নিপীড়ন নির্যাতনের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষ থেকে মুক্ত হতে চায়। তারা চায় প্রতিপক্ষবিহীন একটা রাজনৈতিক ক্ষেত্র। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে যদি তারা ভোটের অপশন বন্ধ করতে পারে তাহলে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের মালিকানা সার্বভৌমত্ব একটি দল বা গোষ্ঠির কাছে চলে গেছে। সেই মালিকানা তারা ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছে না। যে কারণে দেশনেত্রীকে জেলে থাকতে হচ্ছে। একটি ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়ে যারা ক্ষমতায় থাকতে চায় তারা আবার রাজনীতিকরণের কথা বলছে।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, অ্যাড. রফিক সিকদার, সাঈদ আহমেদ আসলাম, ইউনুস মৃধা, মো. জাফরুল, আকবর হোসেন ভুইয়া নান্টু প্রমুখ।