টাঙ্গাইলে মহেড়া পিটিসি তে ডিসি কোর্সে এসআই নিহত

গত ১৫/৪/১৮ বিকালে প্যারেড করার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন এস আই আসাদুল্লাহ। যানা যায়-এ বয়সে শারীরিক ট্রেনিং নেয়ার সক্ষমতা না থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এ ট্রেনিং চলাকালে মাঠে কঠিন শারীরিক শ্রমে মারা যান তিনি।

যানা যায় যারা বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর তারা চাকুরীর শুরুতে ৬ মাস মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর হলে ডিসি কোর্সে আরো ৬মাস মাঠে এবং ৬ মাস বিভিন্ন দপ্তরে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চাকুরীর শুরুতে যে কঠিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেই একই প্রশিক্ষণ দীর্ঘ চাকরি অতিক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় না।জানা যায় এবারের ট্রেনিং এ কিছুদিন আগে একজন সাব-ইন্সপেক্টর মারা গেছেন। এ ট্রেনিং এর বাস্তব প্রয়োজন কতটুকু??

বিশেষ করে সাব ইন্সপেক্টরগণ নিরস্ত্র তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদেরকে মাঠের অমানুষিক নির্যাতনে নিস্পেসিত করে সেখানকার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পয়সা কামানোর একটা সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। এ ব্যাপারে সেখানকার ট্রেনিংরত ডিসিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে আগা গোড়া একজন সততাবিষ্ট আইজিপির নিকট তারা এর আশু সুষ্ঠু সমাধান আশা করেন। এ ব্যাপারে কিছুদিন আগে এসপি মেহেরপুর জেলা মহোদয় একটি সুপারিশ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়েছিলেন, যার যৌক্তিকতা এ শ্রেণীর সর্বজন সন্তুষ্টি অর্জন করেছিল।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সে এস পি সাহেবের সুপারিশ আজো আলোর মুখ দেখেনি।এ ট্রেনিং এর মাধ্যমে বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্ত মেধাবী পুলিশ অফিসারগণ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসারদের সাথে তুলনামূলক বৈষম্যের শিকার হন বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে বাহিনী প্রধানের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ ট্রেনিংটি সংস্কার ও সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের সাথে বৈষম্যের সমাধান কামনা করেন। তাছাড়া লোক চক্ষুর অন্তরালে নানা অনিয়মের কষাঘাতে নিষ্পেষিত হলেও ডিসিদের মুখ খোলার কোন সুযোগ নাই। সেই সুযোগে সুবিধাভোগীরা তাদের হীনস্বার্ত চরিতার্থ করার চরম সুযোগ গ্রহণ করেন।হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। কেউ কোন প্রতিবাদ করলে মাঠের প্রশিক্ষণে নেমে আসে অমানবিক কষ্টের খড়গ যার পরিণতিতে ট্রেনিং করতে গিয়ে অনেককে লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।এর চেয়ে নির্মমতা আর কি হতে পারে?? একেই বুঝি বলে কাকের মাংস কাকে খায়না, কিন্তু পুলিশের মাংস পুলিশ খায়! প্রশিক্ষণের নামে এ প্রহসনের ট্রেনিং বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের মনোবলকে ভেঙ্গে তছনছ করে দিচ্ছে। সুতরাং কর্তৃপক্ষেরর আশু পদক্ষেপ জরুরী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।