কুড়িগ্রামের ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্ট, কৃষকের মাথায় হাত

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধানের নেক ব্লাস্ট রোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। নেক ব্লাস্ট (ধান গাছের গিঁটপচা, শীষের গোড়াপচা) রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা, থানাহাট, রানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হেক্টর জমির ধানের শীষ চিটা হওয়ায় শত-শত কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। সাথে দেখা দিয়েছে পাতা মরা রোগ।

ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এই রোগ দেখা দেয়ায় চাষীদের মুখে হাসির পরিবর্তে ঝরছে চোখের জল। মাঠের পর মাঠ ধানের শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। কৃষক জমিতে গিয়ে হতাশা আর কান্নায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ফসলের রোগ সমাধানের জন্য পাগলের মতো ছোটাছুটি করছেন কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ওষুধের দোকানে। এরপরেও হচ্ছে না প্রতিকার। কৃষি অফিসের লোকজনের গাফলতির অভিযোগ তো রয়েছেই।

সরজমিনে উপজেলার সাতঘড়ি পাড়া, নয়াবাড়ি, জোড়গাছ, রাজারভিটা, রানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বোরো ধানক্ষেত নেক ব্লাস্ট ও পাতা মরা রোগে আক্রান্ত। নেক ব্লাস্ট রোগে শতশত হেক্টর জমির বোরো ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। দূর থেকে দেখলে ওইসব ক্ষেতের ধান পাকা মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায় সব ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে।

চিলমারীতে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সামান্য কিছু জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ হয়েছে। তবে সরজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নেক ব্লাস্ট রোগে শতশত বিঘা ধান ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে এবং তা দিন দিন বেড়েই চলছে।

রমনা সাতঘড়ি পাড়া এলাকার কৃষক আলী নুরুজ্জামান, রমনা ৫নং ওয়ার্ড এলাকার আবুল কাশেম হক, বহরের ভিটার সুরুজ্জামান, হোসেন আলী রাজারভিটা এলাকার বকুল, ছক্কুসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, পরামর্শের জন্য আমরা কৃষি অফিসের লোকজনকে কোনো সময়ই পাশে পাই না। আবার অনেকে এলেও তাদের ঘনিষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে দেখা করে দু-চারটি জমি দেখে সরে পড়েন।

উপজেলা কৃষি অফিসার খালেদুর রহমান জানান, নেক ব্লাস্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এটি কোনো বীজে থাকলে পরে তা জমিতে আসতে পারে। এ ছাড়া আকাশ মেঘলা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও এই রোগের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। রোগ নির্মূলের জন্য আমাদের লোকজন মাঠে মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি