‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে পরাজিত হয়ে দিশেহারা সরকার’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মন্তব্যে বলেন, সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন,“গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করতে না পারায় হতাশায় ডুবছে। লন্ডন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল সাহসী পদক্ষেপ।’ আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পরাজিত হওয়ায় এখন আপনারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। দিশেহারা হয়ে প্রতিদিন আপনারা বকবক করছেন বেশরমের মতো।”

রিজভী বলেন, ‘ভিসির বাসায় নাশকতার অজুহাত তুলে আন্দোলনের লক্ষ্যকে দিকভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে মেতে আছে। সরকার এবং সরকারের পেটোয়ারাই যে ভিসির বাসায় আক্রমণের মূল নায়ক সেটি তারা প্রমাণ করে দিলেন ছাত্রলীগ নেত্রী রগকাটা এশার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জেদের বশে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে দিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ দেশের মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি সবসময় এ দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করেন। দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা যখন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছিলেন এবং সরকারের লোকেরা যখন পায়ের রগ কাটাসহ তাদের উপর একের পর এক রক্তাক্ত আক্রমণ চালাচ্ছিল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যখন রাতভর তাদের উপর গুলি চালাচ্ছিল সেই মূহুর্তে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তিনি (তারেক রহমান) আহ্বান জানিয়েছেন। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এটি তার ন্যায়সঙ্গত ও সাহসী সিদ্ধান্ত। সে জন্য আক্রমণকারীদের নির্দেশদাতারা ক্রোধে-প্রতিশোধে উন্মত্ত হয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি যে শুভঙ্করের ফাঁকি এবং সাম্প্রতিককালের সেরা প্রহসন সেটি আমরা আগেই বলেছিলাম। এটি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ গোটা জাতি এখনও অন্ধকারে। এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা এখনও চলছে, এখনও ছাত্রলীগ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আর ছাত্রলীগ যে প্রধানমন্ত্রীর অঙুলি হেলনে ওঠে-বসে তা কারও অজানা নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।