হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার

জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে গতকাল শনিবার প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ সকালে পাঁচ সদস্যদের একটি মুসলিম পরিবার রাখাইনের তাউনপিওলেতউইয়া সেন্টারে পৌঁছেছে।

মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করেছে। আর সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও ‍পুনর্বাসন তাদের ‘চাল, মশারি, কম্বল, টি-শার্ট, লুঙ্গি ও হাড়িপাতিল দিয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা শর্ত পূরণ করেছে তারা মিয়ানমারে পৌঁছানোর তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেয়া হয়েছে।

তবে রোহিঙ্গা নেতারা মিয়ানমার সরকারের এই এনপভিসি’র সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এই কার্ড দেয়ার অর্থ হলো সারাজীবন রাখাইনে বাস করা রোহিঙ্গারা এখন নতুন অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে দুটি রিসেপশন সেন্টার ও রাখাইন সীমান্তের কাছে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার এক চুক্তি সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একমত হয় ঢাকা-নেইপিদো।

গেলো সপ্তাহে মিয়ানমার সফরের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব উরসেলা মুলার বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। খবর রয়টার্স।

এর আগে গেলো বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অভিযান শুরু করার পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে বলেছে, রাখাইনে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে।