মিয়ানমারে ফেরত গেছে ৫ সদস্যের রোহিঙ্গা পরিবার

নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া এক রোহিঙ্গা পরিবার স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার গভীর রাতে মিয়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবুনিয়া পয়েন্ট দিয়ে তারা ফেরত গেছে বলে জানা যায়।

ফেরত যাওয়া পরিবার প্রধানের নাম আকতার আলম। সে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তুম্ব্র এলাকার চেয়ারম্যান ছিল বলে জানা যায়। স্ত্রী-পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে সে মিয়ানমার ফেরত যায়। এবং সেখানে গিয়ে তারা পরিচয় শনাক্তকরণ কার্ড বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার আর এক সন্তান এখনো তুম্ব্র সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে রয়েছে বলে জানা গেছে। তুমব্রু সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা খালেদ হোসেন জানান, মিয়ানমারের ফেরত যাওয়া আকতার আলমের ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। এরমধ্যে এক মেয়েকে রেখে ৫ জনকে নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন তারা। এক সন্তানকে রেখে গেছে ক্যাম্পে।তবে এক সন্তানকে রেখে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। তাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গারা জানতো না তারা গভীর রাতে চলে গেছে।

তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসরত আরেক রোহিঙ্গা এরফান বলেন, শনিবার গভীর রাতে আকতার আলম তার পরিবার নিয়ে সবার অজান্তে মিয়ানমারে ফেরত গেছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে তিনি মিয়ানমারে ফেরত গেছেন।এবং সেখানে তারা নাগরিকত্ব কার্ডও পেয়েছে বলে শুনেছি।

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ‘আকতার নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিক তার পরিবার নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন বলে আমি শুনেছি। এটা প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারগুলো প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। এজন্য মিয়ানমার সরকারকে আগে থেকেই বলা হচ্ছে ওই পরিবারগুলোকে ফেরত নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা সবাইকে ফেরত না নিয়ে শুধু একটি পরিবারকে নিয়ে গেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল বলেন, তুম্ব্রু সীমান্তের জিরো লাইন থেকে একটি রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথাটি শুনেছি, এটি একটি ভাল দিক তারা তাদের সীমান্তের মানুষজনদের ফেরত নিচ্ছে।

তবে এটার সাথে আমাদের প্রত্যাবাসনের কোন সম্পর্ক নেই কারন এটা মিয়ানমার সীমান্তের জিরো লাইন। ওখান থেকে ফিরে যেতে তাদের কোন বাধা নেই মিয়ানমার সরকার গ্রহন করলেই হয়। একটি পরিবারকে যেহেতু গ্রহন করেছে আশা করি তারা বাকী পরিবার গুলোকেও খুব দ্রুত গ্রহন করবে।

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি