পুলিশের হাতকড়া নিয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী দীপ্ত পলাতক

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের শিল্পনগরী টঙ্গীর একটি মাদক পল্লীতে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়া নিয়ে হত্যা, ডাকাতি মামলার পলাতক আসামী ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী দীপ্ত (৩২) নামে এক আসামী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার পরও পালিয়ে যাওয়া আসামি দীপ্তকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার কিংবা আটক করতে পারেনি। সেই সাথে উদ্ধার করা যায়নি পুলিশের হাতকড়াটি।

বুধবার এ ঘটনায় টঙ্গী মডেল থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে কয়েকজনকে আসামী করে টঙ্গী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। টঙ্গী মডেল থানার ওসি মো: কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দীপ্তকে গ্রেফতারের জন্য টঙ্গীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। একাধিক টিম কাজ করছেন। তবে, এখনও তাকে গ্রেফতার বা হাতকড়া উদ্ধার হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর কুখ্যাত মাদকপল্লী কেরানীরটেক বস্তিতে এঘটনা ঘটে।

টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, পালিয়ে যাওয়া দীপ্ত টঙ্গীর কেরানিটেক বস্তির শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের পুত্র। তার বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হত্যা, মাদক ও ডাকাতি মামলা সহ একাধিক মামলা, জিডি ও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর কুখ্যাত মাদকপল্লী কেরানীরটেক বস্তিতে একটি মাদক উদ্বার অভিযান চালায় টঙ্গী থানার একদল পুলিশ। অভিযান চলাকালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের পুত্র দীপ্তকে পুলিশ ধরে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। তখন খবর পেয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জামালের পরিবার সহ ওই বস্তির অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে দীপ্তকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বস্তিবাসি ও দীপ্তর লোকজনের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ড বাঁধে। এক পর্যায়ে হাতকড়াসহ আসামি দীপ্ত কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সময় টঙ্গী মডেল থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক দীপ্তকে ধরার জন্য পিছু নেয় এবং তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে তাকে ধরতে ব্যর্থ হন। গুলি ছোড়ার সময় অস্ত্রের ট্রিগারের চাপে তিনি নিজেও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ। পরে গোলাগুলির ঘটনায় বুধবার দুপুরে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ জানান, এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল না। দীপ্তকে গ্রেফতারের সর্বাত্বক চেষ্টা এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, তদন্তে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে টঙ্গী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেনকে। তদন্তে পুলিশের গাফিলতি পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্বে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তানজীন মাহমুদ, নিজস্ব প্রতিনিধি