ঘুষ সাধায় আটক ১ চাকরিপ্রার্থী

রোববার চাকরির জন্য রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে নয় লাখ টাকা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন এক যুবক; কিন্তু ছাত্রদের সহায়তায় উপাচার্য তাকে আটক করে সোপর্দ করেছেন পুলিশে। রোববার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে বাংলা বিভাগে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আটক ইলিয়াস হোসেন (৩২) পড়ালেখা করেছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “উপাচার্য স্যার নিয়োগ পান গত জুনে। বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সার্কুলার দেওয়া হয় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ইলিয়াস তিনটি ‘অফিসার পদে আবেদন করেন। তারপর থেকেই ওই লোক বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য স্যারের কাছে চাকরির জন্য ধরনা দিয়ে আসছিলেন।“ সারোয়ার বলছেন, আগেও একবার ইলিয়াস অধ্যাপক বিশ্বজিতকে ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি চাকরির জন্য মোবাইলে বিভিন্ন রকম এসএমএস পাঠিয়ে আসছিলেন; সেগুলো প্রমাণ হিসেবে উপাচার্যের কাছে আছে।

“ভিসি স্যারের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ইলিয়াস সর্বশেষ ভিসি স্যারের অফিসের গাড়ির ড্রাইভারকে ম্যানেজ করে। ড্রাইভারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সে ভিসি স্যারের গতিবিধি লক্ষ্য করত।”

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রওশন আলম বলেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি না হওয়ায় তারা ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি লিয়াজোঁ অফিসে কাজ চালিয়ে আসছেন। উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষও ঢাকায় অবস্থান করছেন। “চাকরির জন্য বেপরোয়া এই যুবক স্যারকে ফলো করতে ঢাকার কাঁটাবনের এক ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করে। আজ সকালে স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তার অফিসে গেলে ইলিয়াসও সেখানে যায়।

উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “ওই ছেলেটা আমার টেবিলে একটা ব্যাগ রাখে। খুলে দেখি টাকা। তাকে ধরতে গেলে সে দৌড় দেয়। তখন কলাভবনের কয়েকজন ছাত্র এসে তাকে ধরে ফেলে। পরে আমি তাকে ডিন অফিসে নিয়ে যাই। সেখান থেকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘুষ দিতে চওয়ার অভিযোগে একজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বিকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।