সুর-তাল-ছন্দে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ

যে মাটি দিয়েছে আশ্রয়, যে মাটিতেই জীবনের হবে ক্ষয়, তার গভীরে শিকড় ছড়িয়ে, আবহমান বাংলার প্রাণ-প্রকৃতির সুর কণ্ঠে নিয়ে বিশ্বায়নের ঐকতানে শামিল হওয়ার প্রত্যয় এসেছে রমনা বটমূলের বৈশাখী বার্তায়। বাঙালির জীবনে শনিবার ভোর এসেছে নতুন বারতা নিয়ে। এই ভোরের আলোয় বাংলা পঞ্জিকায় সূচনা ঘটেছে নতুন বছরের। নারী-পুরুষের রঙিন সাজে, শিশুর মুখের হাসি আর বর্ণিল পোশাকে তাই বৈশাখী রঙ। নানা আয়োজনে, নানা আঙ্গিকে সারা দেশে চলছে বাঙালির সার্বজনীন বর্ষবরণ উৎসব।

ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেছেন, “শিকড়ের মাটিতে দৃঢ়বদ্ধ থেকে বিশ্বায়নের ফলে পাওয়া সত্য-সুন্দরকে আত্মগত করে ঋদ্ধ হব আমরা।” সংগীতায়ন ছায়ানট ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করেছে বিশ্বায়নের বাস্তবতায় বাঙালির আত্মপরিচয়ের তালাশ নেবার আহ্বানে। সূরে্যাদয়ের সঙ্গে মর্তুজা কবিরের বাঁশিতে রাগ আহীর ভাঁয়রো পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। একক ও সম্মেলক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনা আর কবিতার পংক্তিমালায় ছায়ানটের শিল্পীরা স্বাগত জানান পহেলা বৈশাখকে।

সুর-তাল-ছন্দে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ ১

প্রভাতী আয়োজনে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেন, “যে মাটি আমাদের পায়ের তলায় আশ্রয়, জন্মের শুভক্ষণে সেই মাটিতেই  ভূমিষ্ঠ হয়েছি আমরা।  জন্মসূত্রে এ মাটি আমাদের একান্ত আপন। সে মাটির বুকে শিকড়ের মত পা ডুবিয়ে মাটি-মাতাকে জানব আমরা। এমন স্বভাবসম্মত প্রক্রিয়ায় বেড়ে উঠে আত্মপরিচয়ে প্রত্যয়ী, আর প্রতিষ্ঠিত হব আমরা বাংলাভূমির সর্বজন “

পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় জাগরণ গড়ে তুলতে ষাটের দশকে যে সংস্কৃতিকর্মীরা সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট গড়ে তুলেছিলেন তাদেরই একজন সনজীদা খাতুন। ছায়ানটের উদ্যোগেই ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে হয় প্রথম বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। তার বিশ্বাস, অশুভ কালো অপশক্তির বিপরীতে আপন মাটির রস-সম্পদ আর বিশ্ব মানসের ‘সহজ যোগ’ বয়ে আনবে কল্যাণ।

“বিশ্বায়ন আজ আমাদের কাছে বাস্তব সত্য।  এ শব্দ নিন্দা অর্থে উচ্চারণ করছি না। বিশ্বের সংগীতে-সাহিত্যে, শিল্পকলায়-দর্শনে-বিজ্ঞানে যে মহান অর্জন তার স্বাদ নেব আমরা।  আত্মস্থ করতে হবে সকল মানবিক অন্তরসম্পদ। সেই সত্য সুন্দর সমৃদ্ধ করবে আমাদের।” সার্বিক কল্যাণের বোধে পূর্ণ প্রীতিতে ‘সর্ব মানবের অভিমুখে’ সংস্কৃতিকর্মীদের যাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান ৮৫ পেরুনো এই শিল্পী, সংগঠক।