হতাশায় ইলিশ বিক্রেতা, শুটকি দিয়ে পান্তা খাবেন প্রধানমন্ত্রী

এবারের পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশের সরবারাহ থাকার পরও কোনো কারণ ছাড়াই উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। তবে আগে যে পরিমাণ ইলিশ বিক্রি হতো তা অনেকাংশেই কমে গেছে। এজন্য বিক্রেতাদের মুখ পরেছে হতাশার ভাঁজ।

বাঙালির প্রাণের প্রিয় উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এদিনে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ মাছ না হলেই নয় বাঙ্গালির। পহেলা বৈশাখের দিন সারা দেশেই শুরু হয় পান্তা-ইলিশের বেচাকেনা ও খাওয়া-দাওয়ার ধুম। এ ধরনের একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে পান্তা-ইলিশ অপরিহার্য। তাই বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের বাজারে বইছে বৈশাখী ঝড়। অধিকাংশ ব্যবসায়ী ইলিশ মাছ কেজি দরে বিক্রি না করে হালি হিসাবে বিক্রি করছেন।

এদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বাড়তে দেখা গেছে। ইলিশ কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সায়মন আহমেদ বলেন, বৈশাখকে কেন্দ্র করে মাছ বিক্রেতারা আগেভাগেই ইলিশের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে বড় ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও মাঝারি আকারে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। মিরপুর ৬নং বাজারের মৎস্য বিক্রেতা শের মোহাম্মদ বলেন, তাঁর দোকানের বড় ক্রেতা রাজনৈতিক দলের নেতা, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা এবার আর আগের মতো ইলিশ কিনছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী নাকি ইলিশ খেতে নিষেধ করেছেন। এ কারণে কেউ নেতাদের বাসায় বা সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় ইলিশ পাঠাচ্ছেন না।

অনেকেই ইলিশ না খাওয়ার পক্ষ নিয়ে বলেন যে, বাঙালি সংস্কৃতির কোথায় লেখা আছে যে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খেতে হবে? আমাদের দেশে বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশকে আনা হয়েছে মুলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নিয়ে। সুতারাং আমাদের উচিত পান্তা-ইলিশকে বর্জন করে অপসংস্কৃতির কালিমা থেকে আমাদের জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা।

উল্লেখ্য, গত দুই বছর আগে জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় নববর্ষ উদযাপনের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ এর খাদ্য তালিকা থেকে ইলিশ বর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল। আর এবছর পান্তা ভাতের সাথে শুটকি ভর্তা খাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।