আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বাংলা বছরের শেষ দিন আজ

বাংলা বছরের শেষ দিন আজ চৈত্র সংক্রান্তি। সূর্যাস্তের পর হারিয়ে যাবে ১৪২৪। পরদিন শনিবার পহেলা বৈশাখ। শুরু হবে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৫।

হিন্দু শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এই দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যজনক মনে করা হয়। আজ সূর্যাস্তের পর কালের অতলে হারিয়ে যাবে ১৪২৪, কাল সূর্যোদয়ের পর বরণ করে নেয়া হবে ১৪২৫কে।

চৈত্র সংক্রান্তিতে ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়ের মধ্যেই থাকে বর্ষবিদায়ের আয়োজন। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্র সংক্রান্তি। চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্র সংক্রান্তি এক বৃহত্তর লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বাঙালির অন্যান্য উৎসবের মতোই চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গেও রয়েছে খাওয়া দাওয়ার একটা সম্পর্ক। তবে চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। এ ছাড়া দেশজুড়ে চলে নানা ধরনের মেলা, উৎসব।

বসন্ত বিদায় দেয়ার আয়োজন বেশ বড় হয় পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদেরও। তাদের আয়োজনের মধ্যে থাকে ‘ফুল বিজু’, ‘হারি বৈসুক’।

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও লোক গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, ‘শহরে চৈত্র সংক্রান্তির জৌলুস না থাকলেও গ্রাম-বাংলায় এর ঘাটতি পড়েনি। যুগে যুগে বাংলার হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে সংক্রান্তি উৎসব পালন করে এসেছে। এখনও তাই হয়। গ্রামে গ্রামে সংক্রান্তির আয়োজন গত একমাস ধরেই শুরু হয়ে গেছে। গত একমাস ধরে ঢাকার খুব কাছের জেলা বিক্রমপুরে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা হচ্ছে। একই জিনিস দেখা গেছে নরসিংদীতে। হচ্ছে মুখোশে ঢাকা হরগৌড়ি নাচ, বাইদান নাচের পালা। সব ধর্মের মানুষ নির্বিশেষে অংশ নিচ্ছে। হালখাতার শুরুটিও হচ্ছে এই সংক্রান্তিকেই ঘিরে। সংক্রান্তিতে হালখাতা শুরু হয়ে বৈশাখ বরণেও চলে।’

তবে আগে যেমন সংক্রান্তি ঘিরে দীর্ঘদিন মেলা হতো, ষাড়ের লড়াই, লাঠি খেলা হতো– সেসবে একটু ভাটা পড়েছে স্থানের অভাবে। এখন আর আগের মতো খোলা মাঠ পাওয়া যায় না, বা ধান কাটা শেষে ক্ষেত খালি পড়ে থাকে না। ১২ মাসই ধান চাষ হচ্ছে কিংবা ফসল বা অন্যান্য আয়োজনের ফলে সংক্রান্তি আয়োজনে একটু ঘাটতি পড়েছে।