বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’র চার প্রদর্শনী

‘বর্ষ আসুক বর্ষ যাক, থিয়েটার চিরসাথি থাক’- স্লোগান নিয়ে বাংলাপুরাতন বর্ষবিদায় ও নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’র চারটি বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন ১৩ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ও সন্ধ্যা ৭টায় এবং নববর্ষের দিন ১৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টা ও বেলা সাড়ে ১২ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার প্রদর্শনীগুলা অনুষ্ঠিত হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়িত সৃষ্টি কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।

রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরূপে এবং নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয়- মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণীপুর বনে এসেছেন। মণীপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা  মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের  জন্য অপরূপ সুন্দরিতে পরিনত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পরেন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করে চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে- অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়ন এবনহ পাশাপাশি পারস্পারিক সম্মানাবস্থানের প্রেরনারুপে উপস্থাপিত হয়।

‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন- সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, রানা, জেবু, সুমাইয়া, সামাদ, ঊষা, অর্ক, সম্রাট, আলী, বিপুল, অনিন্দ্য, নিসর্গ, মাসুদ, সুকুমার, বিমল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’ ২০১১-এ সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারত এ পর্যন্ত প্রযোজনাটির ৬৩টি সফল মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে।