হ্যাকিংয়ের শিকার সরকারের বিভিন্ন ওয়েবসাইট

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে এসব সাইটে ঢোকা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরই মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সাইটগুলো উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। কিছু কিছু সাইট এরই মধ্যে লাইভ (সচল) করা গেছে বলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দাবি করেছে।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার রাতে জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং সাইটগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি সাইট সচলও করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয় ধারণা করছি। একটি হলো যারা কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করছে তারা হ্যাক করে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটা শুধু বাংলাদেশের আক্রমণ নয়, এই আক্রমণ সারাবিশ্বে হয়েছে। সিসকোতে একটা ত্রুটির কারণে এটা হয়েছে। দুদিন আগে থেকেই বিশ্বে এই সমস্যা শুরু হয়েছে। আমাদের যাদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল, তারা সচেতন ছিলেন না। ফলে এটা ঘটে থাকতে পারে। এই সময় ও সুযোগটাকে কাজে লাগানো হয়েছে।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা কোনও বিষয়কেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। আমাদের প্রথম কাজ হলো সাইট ফিরেয়ে আনা। সেই কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে সাইট হ্যাক করে হ্যাকাররা ‘হ্যাকড বাই বাংলাদেশ’ বার্তা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

হ্যাক হওয়া অন্যান্য সাইটের মধ্যে রয়েছে বঙ্গভবন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পার্ব্যত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল, কন্ট্রোলার জেনারেল, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউট, বিসিএস প্রশাসনের ওয়েব সাইটসহ আরও কয়েকটি।

তবে সরকারের তরফে এসব উদ্ধারে কাজ শুরু হওয়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে পারেননি।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতরসহ সরকারের সব মিলিয়ে ওয়েব সাইটের সংখ্যা ২৫ হাজার। ওয়েবসাইটগুলো একটি প্ল্যাটফর্মে রাখা আছে। সাইটগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে তৈরি।

তবে সাইটগুলোতে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সহজেই দেশি-বিদেশি হ্যাকাররা এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দেশের সাইবার জগতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা টেকসই নয়, এই বার্তাও তাদের কাছে পৌঁছে যায়।

সরকারি সাইটগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া, পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা, সার্ভারগুলো আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ ও যৌক্তিক হওয়ার পরামর্শ তথ্যপ্রযিুক্তবিদদের।

জানতে চাইলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ড. তৌহিদ আই ভূইয়া বলেন, ‘সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে এবং যেখানে সাইটটি হোস্ট করা সে জায়গাটাও অনিরাপদ। এসব সাইট হ্যাক করার জন্য হ্যাকার হওয়ার দরকার নেই। সফটওয়্যারের বিভিন্ন টুলস দিয়েই এসব সাইট হ্যাক করা সম্ভব।’

তিনি সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে ‘হেল্প টেস্ট’ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এটা করা হলে সাইটগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা মেরামত করা সম্ভব। এটা করা গেলে সাইটগুলো আর হ্যাকিংয়ের শিকার হবে না।’