দি ক্যাপে রিও রেস্টুরেন্টে টয়লেটের দেয়ালের ফুটা দিয়ে নারীর ভিডিও ধারনের চেষ্টা

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় দি ক্যাপে রিও রেস্টুরেন্টে ঘটে গেলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রেস্টুরেন্টটির মহিলা টয়লেটের দেয়াল ফুটা দিয়ে অপর পাশ থেকে এক নারীর ভিডিও করছিলেন রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারি। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেই নারী চিৎকার করে উঠলে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অনন্যা কাস্টমার রেস্টুরেন্ট কর্মচারীকে হাতেনাতে ধরে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। ঘটনাটির পুর বর্ণনা সেই সময় উপস্থিত এক ক্রেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে তুলে ধরা হল।

“অনেক নামডাক শুনেছিলাম দি ক্যাপে রিও এর বুফে লাঞ্চের। আজ দুপুরে খেতে গেলাম কয়েকজন মিলে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু হালকা গল্পগুজব করছিলাম। হঠাত শুনি চেঁচামেচি । দেখলাম এক আপু কাঁদছেন । তো ওনার কাছ থেকে যা শুনলাম তার সারসংক্ষেপ এই যে, আপু টয়লেট করতে গিয়েছিলেন। একটা শব্দ শুনে পাশ ফিরে তাকান এবং দেখেন যে ,তার পাশের দেয়ালে একটা ফুটা এবং ভিডিও করছে রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী!!!

এখানে ক্যাপে রিও এর টয়লেটের একটু বর্ণনা দেই। এই রকম আজব টয়লেট আমি আমার জীবনেও দেখি নি। বিশাল এক রেস্টুরেন্টের ছোট্ট একটা ওয়াশ রুম। দুইটা বেসিন; পুরুষ ও মহিলা টয়লেট পাশাপাশি। এবং টয়লেট দুইটার ওয়াল কি দিয়ে তৈরী, জানেন ???? সাদা রঙ করা ট্রান্সপ্যারেন্ট গ্লাস দিয়ে ! ! ! ! যার জায়গায় জায়গায় নখ দিয়ে ঘষে রঙ তোলার দাগ। এবং রঙ উঠে যাওয়া জায়গা দিয়ে ভিতরে সব দেখা যায় ! ! ! এবং অই ছোট ছোট উইন্ডো গুলো এক্কেবারে মোবাইলের ক্যামেরা সাইজের। কিছু কিছু জায়গায় টিস্যু পেপার আর টেপ দিয়ে ফুটো গুলো ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে।

হোটেলের সেই কর্মচারী পাশের পুরুষ টয়লেট এ দাঁড়িয়ে দেয়ালের ওই ছোট ফুটা দিয়ে মহিলা টয়লেটে আপুর ভিডিও করছিলেন মোবাইলে। পুরো সময় টয়লেটের বাইরে পাহারা রত ছিলেন দুই জন পুরুষ ক্লীনার ! ! ! আপু মহিলা টয়লেট থেকে বের হয়ে ওই কর্মচারী কাছ থেকে মোবাইলটা কেড়ে নেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। (বিশেষ দ্রষ্টব্য ওই কর্মচারী পুরুষ টয়লেটের দরজা খুলেই ভিডিও করছিল)। তখন আমরা সহ উপস্থিত যারা ছিলাম সবাই কর্মচারী টি কে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।

এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় দুইটি। এক, ক্যাপে রিও কতিপক্ষ্ তাদের টয়লেটের ডিফেক্ত সম্পর্কে অবগত। এবং এজন্যই তারা টিস্যু আর টেপ দিয়ে ডিফেক্ট লুকাতে চেয়েছিলেন। দুই, এরা পুরো একটি চক্র। একজন কাজ করে, অন্যরা পাহারা দেয়। ওই কর্মচারী ছাড়াও আরো অনেক এর সাথে জড়িত। যাদের কে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয় নি। এবং হয়তো কখনই সম্ভব হবে না।

তাই নিজে সতর্ক হোন। অন্যকে সতর্ক করুন। চারদিকে নোংরা মনের মানুষে সমাজ ভরে গেছে। এই নোংরা দূর করা সম্ভব না। নিজেকে এবং কাছের মানুষদেরকে এই নোংরা থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।”