ঢাবির উপাচার্যের বাড়িতে শুধু ধংসলীলার চিহ্ন!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে জড়ো হয়েছেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি কোটা বিলুপ্ত নয় যৌক্তিক সংস্কার। বিচার চাই বিচার চাই স্লোগানে কাঁপছে ক্যাম্পাস। চারুকলার সামনে দাঁড়িয়ে রাতের নীরবতা ভেঙে হাজারও কণ্ঠে সমস্বরে পুলিশি হামলায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহতের বিচার দাবি করছে শিক্ষার্থীরা।

পুলিশের টিয়ারশেলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে তারা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে উপাচার্যের বাসভবনের জানালার কাঁচ ভেঙেছে।

তখনও বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হয়নি। দোতলায় দুটি কক্ষে বাতি জ্বলছে। সে বাতির আলো ফিনকি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ভাঙা কাচের জানালা দিয়ে যতটুকু আলো বাইরে আসছে, তা আসবাব পোড়ানো আগুনের শিখায় ফিকে হয়ে আসছে বটে।

বাইরে লেলিহান আগুন। সোফা আর কাঠ পোড়ানো আগুনের শিখা আকাশপানে। ভেতরে তাণ্ডব। বাড়ির পেছনে ততক্ষণে দুটি প্রাইভেটকারও পুড়ে ছাই। যেন এক টুকরো নরকের রূপ। কে বলবে, রাত ১২ টার আগেও সব সাজানো, গোছানো ছিল! অথচ রাত ১টা বাজার আগেই সব শেষ।

সবাব আর গাড়ি পোড়ানো আগুনের তেজ তখন কমে এসেছে। দগদগ করছে আগুনের কুণ্ড। ততক্ষণে বিদ্যুতের লাইনও বিচ্ছিন্ন হলো। ঘোর আঁধার। পুরানো গাছগুলো আঁধারকে আরও ঘনীভূত করেছে। আর গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে এক ফালি চাঁদ উঁকি দিয়ে আবারও মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাড়িতে তখন শুধু ধংসলীলার চিহ্ন। বিষাদের রেখা সবার ললাটে। এভাবে কেউ ধংস চালাতে পারে, এটিই যেন সবার প্রশ্ন! নীচতলা থেকে উপরতলা। এক চিলতে জায়গাও বাকি নেই যেখানে হিংসের থাবা পড়েনি। চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশেও এমন তাণ্ডব হয় না। গেস্ট রুম থেকে বেডরুম। রান্না ঘর থেকে বাথরুম। সর্বত্রই ভাঙ্গার খেলা। ফ্রিজ, টেলিভিশন, চেয়ার, টেবিল, আলমারি থেকে শুরু করে ছোট্ট একটি খেলনাও বাদ যায়নি।

প্রথমে নীরব দর্শক ছিলেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান। পরে সপরিবারে বাড়ির কোনো এক আঙ্গিনায় লুকিয়ে থেকে প্রাণে বেঁচেছেন। ধংসের পর আর ঘরে ঢুকতে পারেননি তিনি। বাইরে একটি চেয়ারে প্রায় নির্বাক হয়ে বসে আছেন শেষ রাতেও।

ঢাবির উপাচার্যের বাড়িতে শুধু ধংসলীলার চিহ্ন!

ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, অনেক আন্দোলন দেখেছি। কিন্তু এমন তাণ্ডব দেখিনি। হত্যার পরিকল্পনাই ছিল হয়ত। নইলে বেডরুমে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ওপরে এভাবে হামলা হতে পারে না। ওরা কিছুই আর অবশিষ্ট রাখেনি। ঘরে পা রাখারও উপায় নেই। সর্বোচ্চ ক্ষতিই করে ছিল। অথচ কোটা সংস্কার সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ার। আমরা এখানে কিই-বা করতে পারি। তিনি বলেন, এই ঘটনার দুঃখ জানানোর ভাষা নেই। কারা করেছে, কি উদ্দেশ্যে করলো সরকার অবিলম্বে তার ব্যবস্থা নিক।

ভিসি ভবনেই প্রায় ৩৪ বছর ধরে পিয়নের চাকরি করছেন ইলিয়াস। মুহূর্তের তাণ্ডবে তিনি বাকরুদ্ধ। কথা সরছিল না। ধীর কণ্ঠে বলেন, দশ মিনিটেই শেষ করে দিয়ে গেল। কত মূল্যবান জিনিস। ভাঙল উল্লাস করে করে। এমন হামলার ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। বাইরের লোকও এসেছিল।