সাইবার হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দুই লাখ রাউটারের সুইচ

ইরানের ডেটা সেন্টারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেটওয়ার্কে হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়েছে। ইরানি ডেটা সেন্টারের কম্পিউটার স্ক্রিনে মার্কিন পতাকার ছবি ও ‘আমাদের নির্বাচন নিয়ে ঝামেলা পাকিয়ো না’ শীর্ষক সতর্ক বার্তা প্রদর্শন করেছে বলে শনিবার জানিয়েছে ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

“বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এ হামলায় সম্ভবত প্রায় দুই লাখ রাউটারের সুইচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে আমাদের সাড়ে তিন হাজার সুইচ আছে,” যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলার কারণে ব্যবহারকারীরা সেসময় অনলাইনে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিসকোর রাউটারগুলোই এ হামলার শিকার হয়েছে বলে বিবৃতিতে ধারণার কথা জানানো হয়। হামলার আগেই সিসকো তাদের রাউটারগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছিল।

তারা ওই হামলারোধী একটি ‘প্যাচ’ও সরবরাহ করেছিল, ইরানি নববর্ষের ছুটির কারণে ওই সময় অনেক প্রতিষ্ঠান ওই প্যাচটি ইন্সটল করতে পারেনি বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

সিসকোর টালোস সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ গ্রুপের গবেষক নিক বায়াসনি বৃহস্পতিবার এক ব্লগে বিশ্বজুড়ে চালানো সাইবার হামলার ব্যাপারে অবগত হওয়ার কথা জানান।

শনিবার বিকালে ব্যবহারকারীদের দুর্বলতা চিহ্ণিত করে সাইবার হামলা প্রতিরোধী একটি টুল পোস্ট করার কথাও জানিয়েছে সিসকো।

ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জাভেদ আজারি-জারোমি মার্কিন পতাকা ও হ্যাকারদের বার্তাসহ হামলার শিকার কম্পিউটার স্ক্রিনের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন। কারা ওই সাইবার হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ হামলায় ইউরোপ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তার।

“যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫৫ হাজার ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চীনের ১৪ হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ইরানের আছে মাত্র ২ শতাংশ,” আজারি-জারোমি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালের দিকে সনাক্ত করা ওই হামলার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে কম্পিউটার বিষয়ক ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থা মাহের ‘দুর্বলতা দেখিয়েছে’ বলে নিজের টুইটে মন্তব্য করেছেন আজারি-জারোমি।

ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থার উপপ্রধান হাদি সাজাদি পরে জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই সাইবার হামলা ‘নিস্ক্রিয়’ করা হয়। হামলায় কোনো তথ্য হারিয়ে যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।