রাসায়নিক হামলার জন্য কে দায়ী, চলছে কাদা ছোড়া-ছুড়ি

সিরিয়ার পূর্ব গৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। সরকারি বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলামের। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মীদের সংগঠন হোয়াইট হেলমেট।

টুইটারে হোয়াইট হেলমেটের প্রধান রাইদ আল-সালেহ ‘৭০ জন দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার এবং আরো শতাধিক মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন’ বলে জানিয়েছিলেন। যদিও ওই টুইটটি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় বিবিসি। তবে এখন তারা দৌমায় নিহতের সংখ্যা দেড়শতাধিক বলেছে।

সরকার বিরোধী গৌতা মিডিয়া সেন্টার থেকে এক টুইটে শ্বাসরোধ হয়ে ‘৭৫ জনের বেশি মানুষ’ নিহতের খবর দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় এক হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছে বলেও জানায় তারা। তাদের দাবি, হেলিকপ্টার থেকে ব্যারেল বোমা ফেলা হয়েছে। যেগুলোতে বিষাক্ত সারিন নার্ভ এজেন্ট ছিল।

সিরিয়ায় সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ইউনিয়ন অব মেডিক্যাল রিলিফ অর্গানাইজেশন দেশটির একটি হাসপাতালের বরাত দিয়ে দৌমায় ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। এর আগে চিকিৎসা ত্রাণ সংগঠন সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটি (এসএএমএস) দৌমায় রাসায়নিক হামলায় ৩৫ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল। রাসায়নিক হামলা হয়েছে কিনা বা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং বিবিসি।

এদিকে, সরকারি বাহিনী দৌমায় কোনো রাসায়নিক হামলা চালায়নি বলে দাবি করেছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দৌমার বিদ্রোহীরা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দৌমায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার হলে তার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা উচিত। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযান শুরুর পর সিরীয় বাহিনী পূর্ব গৌতার প্রায় সব এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে, বাকি আছে শুধু জইশ আল ইসলাম নিয়ন্ত্রিত দৌমা।

বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দৌমায় কয়েকদিন হামলা বন্ধ রেখেছিল সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। আলোচনার মাধ্যমে জইশ আল ইসলামের যোদ্ধারা দৌমা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার বিকাল থেকে সরকারি বাহিনীগুলো শহরটিতে ফের ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, দৌমায় সরকারি বাহিনীর ফেলা প্রচলিত বোমার ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১১ জন মারা গেছেন, আরো ৭০ জন শ্বাসকষ্টে ভূগছেন। তবে সেটা রাসায়নিক হামলা ছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানান অবজারভেটরির পরিচালক রামি আব্দুলরহমান।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসএএমএস জানিয়েছে, একটি ক্লোরিন বোমা দৌমা হাসপাতালে আঘাত করেছে, এতে ছয় জন নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় আরেকটি হামলায় নার্ভ এজেন্টসহ ‘মিশ্র এজেন্ট’ ব্যবহার করা হয়েছে যেটি নিকটবর্তী ভবনগুলোতে আঘাত হেনেছে।

এসএএমএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাসেলে টারমানিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাসায়নিক হামলায় মোট ৩৫ জন মারা গেছেন।“আমরা জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ইউরোপীয় সরকারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি,” টেলিফোনে বলেছেন তিনি। রাসায়নিক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জইশ আল ইসলামের রাজনৈতিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসএএনএ এক সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, দৌমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলাম ‘রাসায়নিক হামলার মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে সিরিয়ান আরব আর্মির অগ্রগতি রুখতে ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে’।

সামরিক পরাজয়ের মুখে পূর্ব গৌতারা অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নিরাপদে এলাকা ছেড়ে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলে যাওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করলেও দৌমার জইশ আল ইসলামের বিদ্রোহীরা এলাকা ছাড়তে রাজি হয়নি।