‘রাজনৈতিক সব দল অংশ না নিলে নির্বাচন ভালো হবে না’

শনিবার নির্বাচন বিষয়ক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে নির্বাচন ভালো হবে না। তবে আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবোই, এটা বলতে পারি।

এ বছরের নভেম্বর থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তা অংশগ্রহণমূলক করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে সব মহল। এই প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন করাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করি, সব দলই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। সব দল না এলে আগামী নির্বাচন ভালো হবে না।’

তিনি আরো বলেন, সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেটা ভালো নির্বাচন হবে না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। আপনারা আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবোই, এটা বলতে পারি। সবদলের নির্বাচনে আসাটা জরুরি। আমি এখনো আশা করি সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

দশম সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ইসির কি ভূমিকা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে করব সে ব্যাপারে কমিশনের দৃঢ়তা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কথাবার্তা কম বলছে।

নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলে আচরণবিধি সংশোধন করে সাংসদদের ক্ষমতা খর্ব করা হবে কিনা জানতে চাইলে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘এটা অবশ্যই চিন্তা করা দরকার। তাদের রেখে নির্বাচন করতে হলে আচরণবিধিতে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। এটা নিয়ে আমরা চিন্তা করে দেখব।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জিনিস আছে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। সরকারের কাঠামো কেমন হবে, নির্বাচনের সময় সরকার কি রকম- এগুলো সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের বিষয় না। কি রকম সরকার হবে না হবে সেটা নিয়ে আমরা কিছু করতে পারব না।’

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে সিইসি বলেন, “রংপুরে আমরা চেষ্টা করেছি। গাজীপুর ও খুলনায় আংশিক যতটা পারি আমরা সেখানেও আমরা মানুষের কাছে নিয়ে যাব। সেটা যদি গ্রহণযোগ্য হয় তখন ধীরে ধীরে এটাকে সংস্কার করা হবে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি ।

ইসির আস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশনের নিরপেক্ষতার বিষয়ে রাজনৈতিক দলে কথাবার্তা কম হয়। নির্বাচনকালীন সময়ে কি ধরনের সরকার হবে, নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে এসব বিষয়ে তারা কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনের উপর অনাস্থার বিষয়ে খুব একটা আসেন না। আর যদি এসব বিষয়ে যদি কেউ বলেন, তাহলে আমরা সেটি দেখব।