আলোচিত স্কুলছাত্রী বিউটি হত্যাকাণ্ডের নতুন মোড়!

হবিগঞ্জের আলোচিত স্কুলছাত্রী বিউটি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। বিউটির বাবা ছায়েদ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে হবিগঞ্জের পুলিশ। শনিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য দেন।

বিউটি হত্যায় সরাসির জড়িত বিউটির চাচা ময়না মিয়া। আর সহযোগিতায় ছিলেন খোদ বাবা ছায়েদ আলী। বাবুল মিয়া ও তার মাকে ফাঁসাতে বিউটির বাবা হত্যার পরিকল্পনা করেন।। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল ১০ হাজার টাকার ভাড়াটে এক খুনি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া ধর্ষণে জড়িত থাকলেও সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই হত্যাকাণ্ডে।

বিউটির বাবা ছায়েদ আলী ও তার চাচার ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বলেন, ১৬ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় লাখাই উপজেলার গণিপুরের নানার বাড়ি থেকে বিউটিকে নিয়ে যান ময়না, ছায়েদ ও তাদের ভাড়াটে খুনি। রাত ১২টায় ঘটে হত্যাকাণ্ড। বটতলা এলাকায় বিউটিকে হত্যার সময় বিউটির বাবা সায়েদ আলী  ২০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন । এ হত্যাকাণ্ডে আরেকজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত ছিল। সে বিউটির হাত-পা চেপে ধরে রাখে। আর ময়না মিয়া বিউটির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

পুলিশ সুপার জানান, ভাড়াটে খুনিকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নামও এখনও প্রকাশ করছি না।

মামলার প্রধান আসামি বাবুল ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন’ উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, বিউটিকে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখে টানা ১৭ দিন ধর্ষণ করেছেন বাবুল। হত্যায় তার সম্পৃক্ততা নেই।

চাচা ও বাবার এই লোমহর্ষক খুনের ছক সম্পর্কে এসপি জানান, বাবুলের মা কলম চাঁন এবং ময়নার স্ত্রী আছমা আক্তার সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ময়নার স্ত্রী পরাজিত হন এবং বাবুলের মা জয়ী হন। সেই ‘শোধ তুলতে’ বাবুল ও তার মাকে ফাঁসানোর জন্য নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি করেন ছায়েদ-ময়না।

গত ১৭ মার্চ সকালে জেলার শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেদিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা ছায়েদ বাদী হয়ে বাবুলসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিউটির নিথর মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনকে প্রত্যাহারও করা হয়।

২১ মার্চ বাবুলের মা কলম চাঁন ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৩১ মার্চ সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় বাবুলকে।

এরপর ৬ এপ্রিল হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুল বিউটি হত্যা ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেন। বাবুলের কাছ থেকে ‘তথ্য’ পেয়ে ৫ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় বিউটির চাচা ময়নাকে, ৬ এপ্রিল ধরা হয় বাবা  ছায়েদ আলীকে।