বরগুনায় পায়রা নদীতে অবৈধ খেও বানিজ্যের অভিযোগ

বরগুনা সদর উপজেলার এম. বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাইনসমের্ত এলাকায় পায়রা নদীতে অবৈধ খেও বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাদের পেশী শক্তি ব্যবহার করে এই রমরমা খেও বানিজ্য করছেন বলে একাধীক জেলেদের অভিযোগ।

সরেজমিনে জানা যায়, বরগুনার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাইনসমের্ত গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের পায়রা নদীর জলসীমা কিছু প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা (যা সরকারী সম্পত্তি) ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবী করে, নদীর জলসীমা খেও হিসেবে বিগত ৫-৭ বছর পূর্বে জেলেদের কাছে বিক্রি করেছেন। ১ খেও ২৫-৩৫ হাজার টাকায় দরীদ্র জেলেরা তাদের ভিটে বাড়ী বিক্রি করে এই খেও ক্রয় করে নদীতে মাছ ধরছেন। নদীর জলসীমা ১ খেও ১ হাজার অথবা ১১’শ হাত করে।

নদীতে এই জলসীমায় যার যার ক্রয়কৃত খেওয়ের মধ্যে তারাই শুধু জাল ফেলে মাছ ধরতে পারবেন বলে এই বিধান পূর্ব থেকে প্রচলিত। মনির সহিদ মুন্সী, এবং শাহিন মুন্সীসহ এলাকার আরও কিছু প্রভাবশালী মহল যারা পূর্বে জেলেদের কাছে এই খেও বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তারা পেশী শক্তি ব্যবহার করে এসকল দরিদ্র জেলেদের তুলে দিয়ে চড়া দামে পুনরায় খেও বিক্রি করবেন বলে জানান জেলে আবুল হোসেন, জালাল আহম্মেদ, শাহীন, কালাম এবং এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক মামুন হাওলাদার। বর্তমানে ১ লক্ষ টাকায় এই খেও বানিজ্য চলছে বলে তারা আরও জানান। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার প্রায় শতাধীক ভূক্তভোগী গরীব জেলেরা।

বাইনসমের্ত গ্রামের দরীদ্র জেলে মোঃ জলিল খাঁন লিখিত অভিযোগে জানান, আমি তালতলী মৌজায় পায়রা নদী পাড়ে ১১ সালে ছোট তালতলী গ্রামের হাবিব হাং এর ছেলে মনিরের কাছ থেকে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকায় খেও ক্রয় করি। বর্তমানে মনির পেশী শক্তি ও স্থানীয় অসৎ লোকজনের সাথে আঁতাত করে খেও ফেরত নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগসহ রামদা ছেনা দেখিয়ে আমাকে জীবন নাশের ভয় দেখিয়ে আসছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত মনির খেও বিক্রি করার সত্যতা স্বীকার করেন। জলিলকে রামদাও ছ্যানা নিয়ে দাবানো ধমকানোর কথা তিনি অস্বীকার করেন।

ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার দায়িত্বে সরেজমিন তদন্ত করে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হয়েছে। পুনরায় বিষয়টি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানালেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোঃ মোখলেছুর রহমান।

মোঃ মেহেদী হাসান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি