ফরিদপুরে ঝড়ের কবলে স্কুল, বিপাকে শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ২৩ নম্বর বি এম ডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র চৌচালা টিনের ঘরটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়েই পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে।

চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজ খাঁর ডাঙ্গি গ্রামে অবস্থিত ওই স্কুলের জরাজীর্ণ ও পুরাতন ঘরটির চালের এক অংশ গত ৩০ মার্চ ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এর পর থেকে বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক স্কুল চত্বরে খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পাঠদান করছেন।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোতালেব হোসেন জানান, ১৯৭১ সালে ১২ নম্বর মৌজায় প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয় ভবনটি পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে অস্থায়ীভাবে আমাদের বাড়িতে একটি চৌচালা টিনের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়।

সম্প্রতি ঘরটি ব্যবহারের অনুপোযোগী হলেও কিছু করার ছিল না। এর মধ্যে গত ৩০ মার্চ ঝড়ে স্কুল ঘরটির টিন উড়িয়ে নেয়। এর পর থেকে বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত স্কুল ঘরটি মেরামতের দাবি জানিয়ে বলেন, পদ্মা নদী ভাঙনের স্কুলের আগের জায়গা জেগে উঠেছে। সেখানে স্কুলটি পুনঃস্থাপিত করা যেতে পারে।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মহসিন মোল্লা বলেন, ছোট ছোট শিশুদের খোলা আকাশের নিচে পড়াতে হচ্ছে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ওই এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠ দানের দাবি জানিয়ে বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে শিশুদের ক্লাস করা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

চরভদ্রাসন উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখতে দুই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। তাদের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত জানানো হয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিন জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নতুন জায়গায় বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি