বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ইস্যু নিয়ে পিছু হটছে সরকার

১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকার কারণে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির সুপরিশে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আরও সময় বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিবেচনা করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ ও স্থানান্তরে ছয় দফায় আল্টিমেটাম দিলেও এখনও ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ধরণের উদ্যোগ নেয়নি। তাদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, আশা ইউনিভার্সিটি, সাউথ এশিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, স্টার্মফোট ইউনির্ভাসিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি, সাউথ এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ইবাইস ইউনির্ভাসিটি এবং প্রাইম ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

এসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোনো ধারণের উদ্যোগ না নেয়ায় নতুন ভর্তি বন্ধ করে দেয়ায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে করা হয়। গত মার্চ মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপত্বিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরে ইউজিসি।

জানা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরে ছয় দফায় আল্টিমেটাম দেয়ার পরও ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনে কোনো ধরনের অগ্রগতি না থাকায় তাদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নতুনভাবে তা বিবেচনা করে আরও সময় বাড়াতে সুপারিশ জানানো হয়। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব জিন্নাত বেহানার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সময় বাড়ানোর বিষয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকরি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ হতে প্রাপ্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনে ১১ বিশ্ববিদ্যালয় আরও সময় বাড়ানো যায় কিনা সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির জাগো নিউজকে বলেন, বেসরকরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছে। অনেকে স্থানান্তর হয়েছে, অনেকে আবার এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরির কাজ শুরু করতে পারেনি। এখনই যাতে তাদের বিষয়ে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয় এ ইস্যুতে সময় বাড়াতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন না করা ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছে। হঠাৎ করে তাদের ভর্তি কার্যক্রম বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হবে। এ কারণে তাদের কথা বিবেচনা করে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরিতে আরও সময় বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিন্নাত রেহানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এখনও যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়নি তাদের ভর্তি বন্ধসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখনই তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে না যেতে সমিতির পক্ষ থেকে আরও সময় বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে আমরা ইউজিসির কাছে চিঠি দিয়েছি। তাদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিত্রে সময় বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।