হরিণাকুন্ডুতে সাব রেজিষ্ট্রারের দুর্নীতির প্রতিবাদে দলিল লেখকদের কর্মবিরতী

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার দলিল লেখকরা চুতর্থ দিনের মতো তাদের কর্মবিরতী অব্যাহত রেখেন। মঙ্গলবারও তারা দলিল রেজিষ্ট্রে করা থেকে বিরত রয়েছেন। হরিণাকুন্ডুর সাব রেজিষ্ট্রার হাসানুজ্জামানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে হরিণাকুন্ডুর ৬১ জন দলিল লেখক প্রতিবাদ স্বরুপ কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।

হরিাকুন্ডুর প্রবিণ দলিল লেখক ওয়াজেদ আলী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, গত বুধাবার জেলা রেজিষ্ট্রার (ডিআরও) আব্দুল মালেক হরিণাকুন্ডু অফিসে তদন্তে আসেন। তিনি চলে যাওয়ার পর পরই সাব রেজিষ্ট্রার হাসানুজ্জামান দলিল লেখকদের কাছে টাকা দাবী করেন। টাকা না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনি কোন দলিল নিচ্ছিল না। ফলে ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে প্রতিবাদ স্বরুপ কর্মবিরতী পালন শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, আজকালের মধ্যেই হয়তো সমঝোতা হবে। দলিল লেখক আনিছুর রহমান, মইনুল হোসেন, খবির উদ্দীন, বাবুল আক্তার ও মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেন, সাব রেজিষ্ট্রার হাসানুজ্জামান অফিসে আসেন ১২টায়।

এরপর তিনটার পরে দলিল দিতে গেলে লেট ফি দাবী করেন। অথচ সময় মতো অফিসে আসলে আমাদের এই লেট ফি দিতে হতো না। তাদের অভিযোগ দলিল রেজিষ্ট্রি মূল্যের অতিরিক্ত ১% টাকা করে সাব রেজিষ্ট্রার ঘুষ নেন। দলিল রেজিষ্ট্রির সময় কাগজপত্রের ত্রুটি দেখিয়ে নাইটগার্ড আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘুষ আদায় করেন। জমির পরচা ফটোকপিতে রেজিষ্ট্রির নিয়ম থাকলেও তিনি এই খাতে অতিরিক্ত ঘুষ আদায় করেন বলে দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে শুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, সাব রেজিষ্ট্রার হাসানুজ্জামানের ওয়ান পার্সেন্ট ঘুষের কারণে জমি ক্রেতা বিক্রেতাগন হয়রানী হচ্ছেন। এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার হাসানুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলিল লেখকরা তাকে হেয় করতে এহেন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তিনি বলেন, দলিল রেজিষ্ট্রির টাকা ব্যংকের মাধ্যমে জমা হয়।

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি