দুই বাসের চাপায় হাত হারালো রাজীব, বাস চালক গ্রেফতার

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপে তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত হারানোর ঘটনায় উভয় বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন বাসের চালক মো. খোরশেদ।

বুধবার এক প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগ। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন।

বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন বাস বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বাসের ধাক্কায় তিতুমীর কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থী রাজিব হোসেনের (২২) ডান হাত কনুইয়ের উপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

রাজিবের মামা জাহিদুল বলেন, যাত্রাবাড়ী থাকে রাজিব। কলেজে যাওয়ার পথে এই এ ঘটনা ঘটে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিন ভাইয়ের সে সবার বড়। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার টাইপ করে তার নিজের এবং ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতো।

ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার কবীর জানান, বেলা দেড়টার দিকে বাংলামোটর দিক থেকে ফার্মগেটমুখী একটি দোতলা বিআরটিসি বাস সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগনালে থেমে ছিল। একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহন নামের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে ঢুকে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এক যাত্রীর ডান হাত দোতলা বাসের সাথে লেগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাতটি দোতালা বাসের সাথে লেগে ঝুলছিল। তাৎক্ষণিকভাবে রাজিবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজীবের ডানহাত কুনইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আফতাব আলী জানান, ঘটনার পরপরই স্বজন পরিবহনের চালক বাস রেখে পালিয়ে যায়। তবে দোতালা বাসের চালক ওয়াহিদকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে এ ঘটনায় আজ হাইকোর্ট রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় ওই দুই বাস মালিককে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশ দেন। রুলে ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হাত হারানো রাজীব হোসেনকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।