বান্দরবানে বেপরোয়া পাথর উত্তোলন ও গাছ কাটা বন্ধের দাবি

বান্দরবানে পাহাড়ি ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হচ্ছে উল্লেখ করে সেখানে বেপরোয়া পাথর উত্তোলন ও গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও সেভ দ্যা হিল অ্যান্ড ফরেস্ট। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বান্দরবানের রুমা, থানচি এবং আলিকদমসহ বিভিন্ন পাহাড়ে ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন চলছে। জীববৈচিত্র্যের আধার পাহাড়ের প্রাচীন ও বড় বড় কেটে ফেলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের ঝিরি থেকে বেপরোয়াভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। ফলে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমি ক্ষয় এবং ভূমি ধস।

তারা বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই পাহাড়ে পানিশূন্যতা দেখা দেবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। ফলে পাহাড়ি ইকোসিস্টেম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে, আদিবাসীরা এলাকা ছাড়া হবে। সর্বোপরি দ্রুত পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই অবিলম্বে পরিবেশের রক্ষার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকা থেকে গাছ কাটা ও ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১৪ বছরে সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট হারিয়েছে তার ৫০ শতাংশ পুরোনো গাছ। ২০০৪ সালের সঙ্গে ২০১৮ সালের স্যাটেলাইট ইমেজারি তুলনা করলে দেখা যায় সাংগু উপত্যাকার অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। সাংগু রিজার্ভ ফরেস্টের বড় বড় গাছ কেটে সাংগু এবং মাতামুহুরি বিজিবি ক্যাম্পের সামনে দিয়েই তা নদীতে ভাসিয়ে শহরে আনা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়েই চোরাকারবারিরা এসব কার্যক্রম প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছে।

তারা বলেন, জুমচাষের নামে পাহাড়িদের ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিয়ে লগার তথা অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর ধরে এই ধ্বংসলীলা আড়াল করে যাচ্ছে। ছোট বড় বহু সিন্ডিকেট আছে যারা সাংগু-মাতামুহুরি জোনে তাদের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা প্রথমে একটা পাড়া টার্গেট করে। কারবারির সঙ্গে বৈঠকে বসে বিভিন্ন লোভ দেখায়, নগদ মোটা অংকের টাকাও অফার করে। নানাভাবে এই সংঘবদ্ধ চক্র তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ কাঠ চোরাকারবারিরা পাহাড়ি দুর্গম জায়গায় আস্তানা গেড়ে দিনের পর দিন ধ্বংস করছে মূল্যবান বনজ সম্পদ।

এমতাবস্থায় পাহাড়ি ইকোসিস্টেম রক্ষায় বান্দরবানে অবিলম্বে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিধ্বংসী এই কার্যক্রম বন্ধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, সেভ দ্যা হিল অ্যান্ড ফরেস্টের আহ্বায়ক শিশির সালমান, সদস্য সচিব ছোটন মো. রহমতুল্লাহ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, ইয়ুথ সানের সভাপতি মাকিবুল হাসান, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোর্শেদ প্রমুখ।