ভারতে বন্ধকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ১ 

আজ (সোমবার) ভারত বন্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যে দলিতদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। ভারতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের বিরোধিতা করে দলিতদের ডাকা ভারত বন্ধে বিভিন্ন রাজ্য উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু জায়গায় সহিংস ঘটনাসহ মধ্য প্রদেশে বন্ধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে কারফিউ জারি করতে হয়েছে।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশের হাপুড়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে নেমে পুলিশের উদ্দেশ্যে পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের উপরে লাঠিচার্জ করে। মধ্যপ্রদেশে দলিতদের বিক্ষোভের জেরে সেখানে ১ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এখানে ভারত বন্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারিসহ ভিন্ড, লহার গোহদ ও বেশ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

আজ প্রতিবাদকারীরা মীরাটে দিল্লি-দেরাদুন মহাসড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়াসহ দু’টি বাসেও আগুন ধরিয়ে দেয়। মীরাটে শোভাপুর পুলিশ চৌকি এবং বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। রাজস্থানের ভরতপুরে নারীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বাড়মেরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পুলিশসহ ২৫ জন আহত হয়। পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চালাতে এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করতে হয়। পাঞ্জাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ রাত ১১ টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে।

ভারতে গত ২০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর অত্যাচার বন্ধের যে আইন আছে, তা সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই আইনে কোনো সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন দলিতরা।  আদালতের ওই রায়ের প্রতিবাদে আজ ভারত বনধের ডাক দেয় রাষ্ট্রীয় সেবা দল, ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট পর জাস্টিস, সিআইটিইউ, ভারিপ বহুজন মাহাসঙ্ঘের মতো বেশ কয়েকটা সংগঠন।

এদিকে আজ সরকার পক্ষে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একমত নয়। তারা ওই রায়ের বিপক্ষে আদালতে আবেদন জানাবে বলেও তিনি বলেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী দলিতদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন ‘দলিতদের ভারতীয় সমাজের সবচেয়ে নীচের ধাপে রাখা আর এস এস/বিজেপি’র ডিএনএ-তে আছে। যারা এ ধরণের মতাদর্শকে চ্যালেঞ্জ জানায় তাদেরকে সহিংসতার মধ্য দিয়ে দমন করা হয়।’ সড়কে নেমে তাদের অধিকার রক্ষায় দলিতরা যেভাবে আন্দোলনে নেমেছেন তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন রাহুল।

দলিতদের গণআন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ বিপাকে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একইসঙ্গে ওই ইস্যুতে বিরোধী শিবির দলিতদের সমর্থন করায় তারা নিজেদের দলিত হিতৈষী বলে উপস্থাপন করে দলীয় স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।