বিদ্রোহীদের সাথে চুক্তি, রক্তাক্ত অভিযানের পরিসমাপ্তি

রাজধানী দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী ঘাঁটি পূর্ব গৌতার অবশিষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জারাবলুস শহরে চলে যেতে সম্মত হয়ে চুক্তি করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক দল ও বেসামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহ পরিচালিত গণমাধ্যম ইউনিট রবিবার এ খবর দিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পূর্ব গৌতার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ শহর দৌমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলাম, শহরটির নাগরিক নেতৃবৃন্দ ও রাশিয়ার মধ্যে কয়েকদিন ধরে আলোচনার পর চুক্তিটি হয় বলে জানিয়েছে ওই গণমাধ্যম ইউনিট। এর আগে এই তিনপক্ষের আলোচনায় দৌমা থেকে গুরুতর আহতদের সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত প্রদেশ ইদলিবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

সিরিয়া সরকারের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে অথবা দৌমা ছেড়ে চলে যেতে জইশ আল ইসলাম একটি চুক্তি করতে রাজি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছিল সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সিরিয়ার সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছিল, পাওয়া তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জইশ আল ইসলাম ভারি ও মাঝারি মাপের অস্ত্রগুলো জমা দিয়ে দৌমার ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব স্বীকার করে নিবে।

পূর্ব গৌতা পুনরুদ্ধারের জন্য গত একমাস ধরে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছিল সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বেসামরিক বাহিনীগুলো। পূর্ব গৌতার অন্যান্য এলাকা ও শহরগুলো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে গেলেও জইশ আল ইসলামের যোদ্ধারা দৌমায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু অন্যান্য সব এলাকা পুনরুদ্ধারের পর দৌমায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও গোলাবর্ষণ শুরু করে সিরীয় বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া মধ্যস্থতায় রক্তপাত বন্ধে আলোচনা শুরু করে উল্লিখিত পক্ষগুলো।

এ সময় সরকারি বাহিনী হামলা বন্ধ করে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখে। দৌমার প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া বিদ্রোহীদের দ্রুত শহরটি ছাড়ার তাগিদ দিয়ে না হলে পূর্ণ মাত্রার অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করে তারা। চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলে এর মাধ্যমে পূর্ব গৌতায় একমাস ধরে চলা সিরীয় বাহিনীর রক্তাক্ত অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্রোহীরা চলে যাওয়ার পর শহরটিতে সিরীয় সরকার অনুমোদিত একটি স্থানীয় কাউন্সিল স্থাপন করা হবে এবং তারাই শহরটি পরিচালনা করবে।