নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) জুলেখা বেগম নামে এক প্রসূতির নবজাতকের মাথা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন ও জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক তারেক আবদুল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইয়াহিয়া এবং গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শায়েলা নাজনীন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

কুমেকের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী জানান, এ ঘটনাটি তদন্তে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রোববার বিকেলে হাতে পেয়েছি, তবে এর ফলাফল এখনই জানানো সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, আগামী ৪ এপ্রিল উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেয়াসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন দুপুরে গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজ তার অপারেশন করেন।

অপারেশনে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন এবং জুলেখার জরায়ু কেটে ফেলার সংবাদ গত ২৫ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এতে ওইদিনই মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার ফারহানা ইসলাম খান, আনিসুল হাসান ও সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ আদালতে এক রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা, পপি, জানিবুল হক, দিলরুবা ও ডা. আয়েশা আফরোজকে আগামী ৪ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা এবং একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।