ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে অবরোধ-বিক্ষোভ

ঈশ্বরদীর পাকশীতে গুলি ও ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ নেতা সদরুল আলম পিন্টুকে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের এ অবরোধের কারণে সোমবার নাটোর-পাবনা ও কুষ্টিয়া মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রোববার (১ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে পাকশীর রূপপুর মোড়ে ৭-৮ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা সদরুল আলম পিন্টুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করার পর তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এর মধ্যে ২ রাউন্ড গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়।

স্থানীয়রা পিন্টুকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার (২ এপ্রিল) ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতালে তার কাছে থাকা পাকশী যুবলীগ কর্মী আলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সদরুল পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর তিনবটতলা গ্রামের আজাদ মালের ছেলে। এদিকে পিন্টুর মৃত্যুর খবরে সোমবার সকাল ৮টার দিকে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পাকশীর রূপপুর মোড়ে বেঞ্চ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে নাটোর-পাবনা ও কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে এ মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

বিক্ষোভ মিছিলে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, ইউনিয়ন সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, সাধারণ সম্পাদক বাবু মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ রশীদুল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইকবাল পাশা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাকশীর ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ হোসেনের সঙ্গে সদরুল আলমের দ্বন্দ্ব চলছিল। দুই বছর আগে সদরুল প্রকাশ্যে সৌরভের হাত কেটে দেয়। সেই হাত নিয়ে মোটরসাইকেল বহরসহ পাকশীতে উল্লাস করে তারা। এ ঘটনায় সদরুল আলমকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়। সেই থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

ওই ঘটনার জের ধরে সদরুল আলমের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবব্রত পাল জানান, ‘সদরুল আলমের শরীরের বিভিন্ন অংশে সাত-আটটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে বুক ও পেটে গুলির ক্ষত ছিল’।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জহুরুল হক বলেন, ‘আহত পিন্টুর কোমরে দুটি গুলি বিদ্ধ হয়। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতির গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে’।