‘এক হাতে রিকশা চালাতে কষ্ট হলেও চালাতে হয়’

‘১৯৮২ সালে ততৃীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সুপারি পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে বামহাত ভেঙে যায়। এক হাতে রিকশা চালাতে কষ্ট হলেও চালাতে হয়। অভাবের সংসার আমাদের।’ কথাগুলো বলছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম। পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ৩নং পূর্ব কদমতলা ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার প্রথমে আমাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতাল নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

সেখানে দুমাস চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে আমার বাম হাতের কনুই থেকে সামনের অংশ কেটে ফেলা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ১৯৮৪ সালের দিকে স্থানীয় খানাকুনিয়ারি মাদরাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হই। কিন্তু অভাবের তাড়নায় ৮ম শ্রেণিতেই লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আয়ের খোঁজে ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে রিকশা চালানো শুরু করি। প্রথম প্রথম রিকশার হাতল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতাম না, এখন ঠিক হয়ে গেছে। তারপরও এক হাতে রিকশার হাতল জোরে চেপে ধরতে হয়। রিকশা চালাতেও কষ্ট হয়।

তারপরও রিকশার আয় থেকেই সংসার চলে। রিকশা চালিয়ে দিনে দুই থেকে তিনশ টাকা পাই। এরমধ্যে রিকশার ভাড়া গুনতে হয় ৩০ টাকা। যা থাকে তা দিয়েই টেনেটুনে চলছি। বাবার রেখে যাওয়া ৬ শতক জমির মধ্যে দুই শতক ভাগে পেয়েছি। এর মধ্যেই ঘর তুলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আছি। দুই ছেলে-এক মেয়ে আমাদের। ছেলে শরিফুল ইসলাম সুজন ও আরিফুল ইসলাম আরমান এবং মেয়ে নারগিস সুলতানা। ছেলে মেয়ে দুজনেরই বইয়ের দরকার হলেও অর্থাভাবে তা কিনতে পারছেন না। এতে বড় ছেলে ও মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার পথে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার রিকশায় যাত্রী ওঠার পর অনেকেই আমার হাতের অবস্থা জানতে চায়। কিন্তু সব শুনে নির্দিষ্ট ভাড়ার বাড়তি কোনোদিন কেউ দেয় না। প্রতিদিন ভোরে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের পূর্ব কদমতলার বাড়ি থেকে শহরে আসি আয়ের জন্য। রাত ১০ টার দিকে বাড়িতে ফিরি। রোদ, বৃষ্টি, শীত সবই নিত্যসঙ্গী। কথাগুলাে বলার সময় অজান্তেই দু’চোখের কোণে পানি জমে উঠলো শহিদুলের।

৩নং পূর্ব কদমতলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুস্তম খান বলেন, সমাজের বিত্তবান লোকদের উচিত শহিদুলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।