‘ইরানের পরমাণু উচ্চাভিলাষের বিষয়টি সবার কাছেই স্পষ্ট’

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন দাবি করেছেন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের সামরিক উপস্থিতি এবং দেশটির পরমাণু উচ্চাভিলাষের বিষয়টি এখন সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে মার্কিন নীতির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, পাশ্চাত্য বহুবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কিন্তু ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য দাবি করেছিলেন, পরমাণু সমঝোতা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে বিরত রাখতে পারবে না আর সে কারণে ইরানের সঙ্গে বিকল্প সমঝোতায় পৌঁছা দরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন অজুহাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অথবা নিজের ইচ্ছামতো চুক্তিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন। আমেরিকা, সৌদি আরব এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরমাণু সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি ও গঠনমূলক ভূমিকা এবং এ অঞ্চলে দিন দিন ইরানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক স্বৈরসরকার ও বৃহৎ শক্তিগুলো চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে আরব ও পাশ্চাত্য জোট নানা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে এ অঞ্চলে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা কোনো কোনো দেশের সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই ক্ষুব্ধ ব্রিটেন ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক গালিব কান্দিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেছেন, ইরান এ অঞ্চলে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং দেশটির আর্থিক, সামরিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সহযোগিতার ফলে প্রতিরোধ শক্তিগুলো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন পিএলও’র কর্মকর্তা সালেহ আবু মাজেদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শক্তিশালী ভূমিকা শত্রুদের সব সামরিক ও রাজনৈতিক হিসেবে নিকেশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানকে পরমাণু উচ্চাভিলাষী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ প্রথম কথা হচ্ছে, ইরানের নীতিই হচ্ছে আত্মরক্ষামূলক এবং পরমাণু বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার ফতোয়ায় পরমাণু অস্ত্র তৈরিকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন।  দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরুর পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার দশটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের কর্মকর্তারা অভিন্ন নীতি পোষণ করে এবং ইরানের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তারা নিজেরাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে নীতি নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকা নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নীল নকশা সহজে বাস্তবায়ন করা যায়।