সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে সম্প্রতি এ রকম একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।পরিপত্রে বলা হয়েছে, লক্ষ করা যাচ্ছে যে সরকারের আদেশ উপেক্ষা করে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা পেনশনধারীদের কাছে পুরো চাকরিজীবনের রেকর্ড কাগজপত্র চাচ্ছে। বিষয়টি মোটেও অভিপ্রেত নয়। এতে পেনশনধারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, আবার পেনশন কেইসগুলো নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার তিন বছর আগের কোনো কাগজপত্র, রেকর্ড বা না-দাবি প্রত্যয়নপত্র কোনো সরকারি কর্মচারীর কাছে চাওয়া যাবে না। অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের পেনশন আবেদন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় ‘বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পেনশন মঞ্জুরি ও পরিশোধ-সংক্রান্ত বিধি বা পদ্ধতি অধিকতর সহজীকরণ আদেশ’ জারি করে।

সেই আদেশে উল্লেখ আছে, এলপিআরে যাওয়ার আগের তিন বছরের কাগজপত্রের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীর কাছে সরকারের দেনা বা পাওনা অগ্রিম হিসাব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে না-দাবি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আদেশটি পুরোপুরিভাবে পরিপালিত না হওয়ায় নতুন করে আবার পরিপত্র জারি করা হয়।

বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পেনশনব্যবস্থার বর্তমান নিয়ম চালু হয় ১৯৯৪ সাল থেকে। আর সামরিক সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা ২০০৩ সাল থেকে চালু হয়। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। আর অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের মতো। এর আগে পিআরএলে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন এবং বার্ষিক বর্ধিত বেতন বা ইনক্রিমেন্ট বিষয়ে জটিলতা দূর করতেও নতুন মতামত দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়, পিআরএলে থাকা যেসব সরকারি কর্মচারীর জন্য ২০১৭ সালের ৩০ জুনের আগে আংশিক বা সম্পূর্ণ পিআরএল বাতিল করে শতভাগ পেনশন সুবিধার আদেশ জারি করা হয়, তাঁরাই শতভাগ পেনশন সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ একজন সরকারি কর্মচারী কেবল ভোগকৃত পিআরএলের জন্যই বেতন-ভাতা পাবেন, অভোগকৃত বা বাতিলকৃত পিআরএলের জন্য তিনি কিছুই পাবেন না।