বাবু সোনা এখনও নিঁখোজ থাকার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের

নিঁখোজের দুইদিনেও খোঁজ মেলেনি রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওমীলীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার (৫৮)। এদিকে বাবু সোনা এখনও নিঁখোজ থাকার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের। আজ রবিবার রংপুর শহরজুড়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশসহ স্বারকলিপি পেশ করে তাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা নামেই পরিচিত। কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি। মামলার রায়ে আজহারুলের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে দেয়া সাক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী ছিলেন বাবু সোনা।

এছাড়া রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে তিনি সরকারপক্ষে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলা পরিচালনা করেন। এর মধ্যে খাদেম হত্যা মামলায় গত ১৮ মার্চ সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছার পরদিন এই আইনজীবী নিখোঁজ হলেন। জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার সরকারপক্ষের প্রধান আইনজীবীও ছিলেন তিনি। এ মামলায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

জানা গেছে, নগরীর ডিমলা রাজ দেবত্তোর স্টেট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে হামলা-মামলার মত ঘটনাও ঘটেছে। গত বছরের ১৭ জুন নগরীর ডিমলা রাজ দেবত্তোর স্টেট পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাবু সোনা বাদী হয়ে ওদিনই মামলা করেন। নিখোঁজ বাবু সোনার স্বজনরা জানান, এসব বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছিল।

এদিকে বাবু সোনাকে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বনমালী পাল। তিনি বলেন, জাপানি নাগরিক হত্যা মামলায় জঙ্গিদের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ৩/৪ দিন বাসায় পুলিশ পাহারা দিয়েছে। এরপর পুলিশ তার কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। ১৮ মার্চ মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জঙ্গিদের ফাঁসি হওয়ার পরও তার কোনো নিরাপত্তা দেয়নি পুলিশ।

এদিকে, দুপুরে নিখোঁজ বাবু সোনার তাজহাট বাবুপাড়াস্থ বাড়িতে যান পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। এ সময় তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট বাবু সোনা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকে তাকে উদ্ধারের জন্য মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। তাকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

নিখোঁজ আইনজীবীর স্ত্রী দীপা ভৌমিক জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কাজের কথা বলে তার স্বামী পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি লাল মোটরসাইকেলে করে বাড়ির বাইরে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কারো যোগাযোগ হয়নি।

এদিকে, বাবু সোনাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে রংপুর জেলা ও মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদযাপন পরিষদ। এছাড়াও আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

জেলার লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে অবস্থান নেয়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। নিখোঁজ বাবু সোনাকে ফিরে পেতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছাড়াও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের রংপুর বিভাগের ট্রাস্ট্রি, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত তিনি।