‘ঢাকায় পৌঁছে মায়ের সঙ্গে কথা হবে, আর কথা হয়নি’

শেরেবাংলা কৃষি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ওঠার সময় বলেছিল, ‘পৌঁছে মায়ের সঙ্গে কথা হবে।’ আর কথা হয়নি। ট্রেনের ছাদে পড়েছিল শাকিবের মৃতদেহ। পুলিশ বলছে, পেশাদার ছিনতাইকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে। তবে পরিবার বলছে, পুলিশ গোঁজামিল দিচ্ছে।

শাকিবের মা স্কুলশিক্ষক পারুল বেগম বলেন, তাঁদের ছেলের খুনের পেছনে আকাশ ও মুন্না রয়েছেন। তাঁরা শাকিবকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের কর্মিসভা ছিল। ট্রেন ছাড়ার কিছু আগে আকাশ-মুন্না তড়িঘড়ি করে সভা ছেড়ে উঠে যান বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

তথ্য পাওয়া যায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি শাকিব খানকে হত্যা করেছে মো. শুভ মিয়া নামে এক ছিনতাইকারীর নেতৃত্বে সাত/আটজনের একটি দল। ওই দিন শাকিব ঘোড়াশাল রেলস্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কর্ণফুলীতে উঠেছিল। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঘোড়াশাল থেকে ছেড়ে আসা ওই ট্রেনটি বিমানবন্দরে রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তার লাশ উদ্ধার হয় ট্রেনের ছাদ থেকে। সুরতহালে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। শাকিবের মা পারুল বেগম ও বাবা সফিদ্দিন পুলিশকে জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী আকাশ ও মুন্না তাঁদের সন্তানকে হত্যা করেছেন। জানুয়ারি মাসেই দুটি মোটরসাইকেলে আকাশ, মুন্নাসহ ছয়জন এসে হত্যার হুমকি দিয়ে যান।

কিন্তু পুলিশ বলছে এটা ছিনতাইকারীদেরই কাজ। মৃতদেহ উদ্ধার হলেও শাকিবের কাছে থাকা ব্যাগ ও দুটি মুঠোফোন খোয়া যায়। পুলিশ তদন্তের একপর্যায়ে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মো. শুভ মিয়া নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে শুভ মিয়া কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে দলবল নিয়ে একটি ছেলেকে কুপিয়ে অজ্ঞান করে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, আকাশ ও মুন্নার মুঠোফোন ধরে তদন্ত করে দেখেছে, ওই দিন তাঁদের অবস্থান ছিল নরসিংদীতে। তবে পরিবারের দাবি ওই দুজন আরও বেশ কটি নম্বর ব্যবহার করে। সেগুলোরও তদন্ত করা হোক।

পুলিশ বলেছে, তদন্ত শেষ হয়ে যায়নি। তদন্তে আকাশ-মুন্নার নাম এলে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।