অ্যানির ভালোবাসায় অন্ধ আজ তমাল!

২০১৫ সালের মার্চ মাসে। চাচাতো বোনের বিয়েতে পরিচয় হয় অ্যানির সঙ্গে। পরিচয় থেকে কথা বলা এরপর ঘুরাফেরা। এর মাঝেই ঘটে দুজনের মন দেয়া-নেয়া। এরই মধ্যে অনেক টাকা খরচ করে ফেলি অ্যানির পিছনে। এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ জরুরি কথা আছে বলে দেখা করতে চায় অ্যানি। জানায় অন্য একটা ছেলের সাথে তার ৫ বছর ধরে প্রেম। সেপ্টেম্বরে বিয়ে হয়েছে তাদের।

অ্যানির এমন অপ্রত্যাশিত জবাবে মেজাজ হারিয়ে ফেলে তমাল। রাগের বশবতী হয়ে থাপ্পর মারে অ্যানিকে। তবে এই থাপ্পর যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা জানতেন না তমাল। জবাবে অ্যানি হুমকি দিয়ে বলে, এ থাপ্পড়ের জবাব আমিও দেব। এই ঘটনার দেড় বছর পর অ্যানির স্বামী সুমিতের নেতৃত্বে আমার ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে। অ্যানির ভালোবাসায় অন্ধ আজ তমাল। গত শুক্রবার রাতে রাজধানী থেকে সুমিত ধর (৩০) ও মমিতা দত্ত অ্যানি (২৬) ধরা পড়ে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তমাল বলেন, অ্যানিকে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। ২০১৬ সালের শেষের দিকে ‘প্রজাপতির ডানা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার কাছে রিকোয়েস্ট আসে। আমি রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করি। পরে তার সঙ্গে চ্যাটিংয়ে কথা হয়। জানায় সে কলকাতা থেকে বলছে। এভাবেই দুইমাস যাওয়ার পর ওই আইডি থেকে জানানো হয়, তার কাকার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে সে। দেখা করবে।

ফেসবুকেই নির্ধারিত হয় আমরা গুডস হিলের সামনে দেখা করবো। আমি সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় পৌঁছাই। তখন দেখি দুইজন যুবক বেশ বড়বড় চোখ করে আমাকে লক্ষ্য করছে। এদিকে আমি অপেক্ষা করছিলাম ‘প্রজাপতির ডানার’। তিন-চার মিনিট পর হঠাৎ ওই যুবকরা আমার মুখে অ্যাসিড মারে। তখন আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সারা মুখ খুব বেশি জ্বলছিল। এর মাঝে একজনকে একটু আবছা আবছা চিনতে পারি। সে সুমিত। অ্যানির স্বামী।

তমাল আরও বলেন, আমি অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যখন পানি পানি চিৎকার করছিলাম তখন একজন যুবক বলছিল, অ্যানির সঙ্গে প্রেম করার মজা দেখ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মামলাটি আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। বেশ চালাক এই সুমিত ও তার সহযোগীরা। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাদের গ্রেফতার করা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, গত বছরের এপ্রিলে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসে মামলাটি। কিন্তু কোনোভাবেই এ দুইজনকে ট্রেস করা যাচ্ছিল না। শেষে গিয়ে খুব দুর্বল একটি সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে সুমিত ও অ্যানির ঠিকানা। এই ঘটনায় আটকদের  ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তমালের বাবা বাবুল চন্দ্র দে।