ইউক্রেইনের সামরিক পাইলটের আত্মহত্যা

ইউক্রেইনের সামরিক পাইলট ক্যাপ্টেন ভ্লাদিসলাভ ভলশিন আত্মহত্যা করেছেন। যার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজ এমএইচ১৭ ভূপাতিত করার অভিযোগ করেছিল রাশিয়া। ভলশিন বলেছিলেন, রাশিয়ার এ অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার তদন্তে ডাচ তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার বাক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বোয়িং ৭৭৭ বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল।

ইউক্রেইনের সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ জানায়, ভলশিন কৃষ্ণসাগরের কাছে মাইকোলাইভে নিজ বাড়িতে একটি পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ইউক্রেইন তাকে সমর নায়ক ঘোষণা করেছে।

২০১৪ সালে ১৭ জুলাই মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে রুশ সীমান্তের অদূরে দক্ষিণ ইউক্রেইনের আকাশে বিধ্বস্ত হয় এবং ২৯৮ আরোহীর সবাই মারা যায়। তদন্তে বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে বলে জানা যায়। ইউক্রেইনের সরকারি বাহিনী এবং রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী পরস্পরকে এজন্য দায়ী করে। ওই সময় ভলশিন ৩৩ কমব্যাট মিশনের হয়ে এসইউ-২৫ জঙ্গিবিমান নিয়ে পূর্ব ইউক্রেইনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।রাশিয়ার অভিযোগ, ভলশিন জঙ্গিবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেন।

অন্যদিকে, গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র (বিইউকে) দিয়ে বিদ্রোহীরা ভুল করে বিমানটি ভূপাতিত করেছে। যদিও রাশিয়া বিদ্রোহীদেরকে এধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্বাধীন তদন্তেও রুশ সমর্থিত বিদ্রোহী বাহিনী বা রাশিয়ার সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে বলা হয়। ২৯ বছরের ভলশিন সর্বশেষ মাইকোভাইভ বিমানবন্দরের দায়িত্বে ছিলেন।

ভলশিন বিষন্নতায় ভুগছিলেন বলে জানায় তার পরিবার। রোববার যখন তিনি আত্মহত্যা করেন তখন তারা একই ফ্ল্যাটে ছিলেন। গুলির শব্দ পেয়ে তারা ভলশিনকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।