‘ভুল করলে প্রয়োজনে কান ধরে ঠিক করিয়ে দেবেন’

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের উপস্থিতিতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিপ্লব কুমার দেব। তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব বর্মন। শুক্রবার আগরতলায় আসাম রাইফেল গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদভানিসহ বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবসহ মোট ৯ জনকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল তথাগত রায়। এদের মধ্যে সুদীপ রায় বর্মন ও রতনলাল নাথ-এর মতো প্রাক্তন কংগ্রেসী নেতারাও রয়েছেন। মোট ১২ জনের মন্ত্রিসভার বাকি ৩ জনের শপথ আজ হয়নি। মন্ত্রিসভায় একমাত্র মহিলা প্রতিনিধি হলেন সান্ত্বনা চাকমা। রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের মাঝে ‘বিগ বি’ বলেই পরিচিত বিপ্লব দেব। মিতভাষী বিপ্লব আগরতলার একটি ছোটো ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। স্ত্রী নীতি দেব কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। দেব দম্পতির দুই সন্তান। ছেলে এবার দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দিচ্ছে। মেয়ে ছোট।

প্রায় ১০০ ফুট লম্বা স্টেজে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। লালকৃষ্ণ আদবানি ও মুরলী মনোহর যোশির পাশে বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে আসার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করেন। দুজনকে কিছুক্ষণ কথাও বলতে দেখা যায়। শপথ অনুষ্ঠানের পর মঞ্চ ছাড়েন মানিক সরকার। প্রাক্তনের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বিদায় জানান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বর্ষীয়ান সিপিএম নেতাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, ‘বিরোধীদের সঙ্গে উন্নয়নের কাজ’ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। নয়া মন্ত্রিসভার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের মধ্যে জোশ আছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হবে।’ ত্রিপুরাবাসীর স্বপ্ন পূরণে কেন্দ্রীয় সরকারও সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি। আজকের শপথ অনুষ্ঠানকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নই বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য।’ তাদের ভোট দিয়ে জেতানোর জন্য রাজ্যবাসীকে ‘ধন্যবাদ’ জানান তিনি। ‘আমাকে আপনাদের ছেলে, ভাই হিসেবে ভাববেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়। ভুল করলে প্রয়োজনে কান ধরে ঠিক করিয়ে দেবেন।’ শপথ নিয়ে ৩ লাখের বেশি ভিড়কে বলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন হয়। বিধানসভার ৬০টি আসনের মধ্যে ৫৯ টিতে নির্বাচন হয়। গত ৩ মার্চ ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সেখানে কখনোই কোনো আসন না পাওয়া বিজেপি-আইপিএফটি (ইনডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা) জোট অপ্রত্যাশিতভাবে হটিয়ে দিয়েছে সিপিএমকে। বিজেপি জোট পেয়েছে ৪৩ আসন। আর সিপিএম পেয়েছে মাত্র ১৬টি আসন। গত ৬ মার্চ রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের অনুমতি চান ৪৮ বছরের বিপ্লব কুমার দেব।