‘এমন সংকটময় সময়ে মুসলিম দেশগুলো কোথায়?’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে এ মুহুর্তে মুসলিম বিশ্বকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান শান্তিতে নোবেল বিজয়ী তিন নারী। মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত, নিপীড়িত রোহিঙ্গারা আজ বাংলাদেশে এসে পরবাসে জীবন-যাপন করছে। এসব সর্বশান্ত রোহিঙ্গাদের জন্য অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের হস্তক্ষেপ দাবী করছেন, কিন্তু মুসলিম দেশ গুলো চুপ মেরে আছে।

আজ এমন সংকটময় সময়ে মুসলিম দেশগুলো ইরান, সৌদিআরব, কাতার, আরব আমিরাত কোথায়? এসব প্রভাবশালী দেশগুলো রোহিঙ্গা মুসলিমদের সেবায় আসছে না কেন? মঙ্গলবার সকালে তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইরানের নাগরিক শিরীন ইবাদি।

মিয়ানমার সরকার ও সেনা বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন নিপীড়ন থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতে গত তিন দিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের নোবেল বিজয়ী মেরেইড ম্যাগুয়ার ও ইরানের নোবেল বিজয়ী শিরীন ইবাদি। এর আগে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালীর তাজনিমারখোলা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ক্যাম্পের সার্বিক অবস্থা এবং রোহিঙ্গাদের জীবন যাপনের খোঁজ খবর নেন। এসময় ধর্ষিতা নারী, শিশু ও গুলিবিদ্ধ সহ অসংখ্য নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুর সাথে একান্ত আলাপ করেন তিন নোবেল বিজয়ী ।

ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিন নোবেল বিজয়ী বলেন, মিয়ানমারে যে গণহত্যা, জাতিগত নিধন, গণধর্ষণ ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে তা মেনে নেওয়া যায়না। এমুহুর্তে সমগ্র মুসলিম জাতিসত্তাকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার আহবান জানান তারা।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান চোখের জল ফেলে বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এর বিহীত ব্যবস্থা গ্রহন করনে প্রথমে অং সান সুচি’র পদত্যাগ করা উচিত। সে যেহেতু শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন নারী, পাশপাশি তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে এর দায়ভার এড়াতে পারেনা।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী উত্তর আয়ারল্যান্ডের মেরেইড ম্যাগুয়ার বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের যেভাবে ধর্ষণ, উৎপীড়ন ও নির্যাতন করা হয়েছে এ জন্য অং সান সুচি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে স্ব সম্মানে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব তথা সমগ্র জাতিকে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করার উদ্বাত্ত আহবান জানান। নোবেল বিজয়ী তিন নারী সীমান্তের জিরো লাইন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আজ বিকালে ঢাকা ফিরবেন বলে জানা গেছে।

 

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি