আগামী ৬ মার্চ দ্বিতীয়বারের মত জাতীয় পাট দিবস উদযাপন

দেশে দ্বিতীয়বারের মত জাতীয় পাট দিবস পালন করবে সরকার। সোনালী আঁশের সোনার দেশ/পাট পণ্যের বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যে আগামী ৬ মার্চ ‘জাতীয় পাট দিবস-২০১৮’ উদ্‌যাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।

সচিবালয়ে পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পাট দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ৩ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদি ইনস্টিটিউটে আলচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও বহুমুখী পাট পণ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া সেখানে ৬-৮ মার্চ পাটপণ্য মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।’

পাট দিবসের গুরুত্ব এবং পাট সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে সারাদেশে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রচনা প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী ক-গ্রুপ (নবম-দশম শ্রেণি) ও খ-গ্রুপে (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৬ জনকে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত করবেন।’

‘এছাড়া সেরা পাটচাষী, সেরা পাটবীজ উৎপাদনকারী, বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকল, পাটপণ্য উৎপাদনকারী সেরা সরকারি পাটকল, পাটপণ্য উৎপাদনকারী সেরা বেসরকারি পাটকল, সেরা কাঁচাপাট রফতানিকারক, সেরা পাটপণ্য রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান, সেরা পাট সুতা রফতানিকারক, সেরা বহুমুখী পাটপণ্য রফতানিকারক, সেরা বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনকারী পাটকল, সর্বোচ্চ পাট সরবরাহকারী ও সেরা বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাসহ ১১টি ক্যাটাগরিতে ১২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে।’

পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তারা এ পর্যন্ত ২৩৫ রকমের পাটপণ্য উৎপাদন করেছে জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যা পাটজাত পণ্যের মেলায় প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় প্রতিদিন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, এতে দেশ বরেণ্য শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।’

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।

পাট দিবস উপলক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত আরও নানা কর্মসূচি হতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মির্জা আজম বলেন, ‘পাট দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রোড শোসহ ফরিদপুর যাত্রা, ২ মার্চ একই স্থান থেকে বর্ণাঢ্য পাট র্যালি ও রোড শোসহ জামালপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হবে।’

‘আগামী ৩ মার্চ বেলা ৩টায় হাতিরঝিলে নৌ র্যালি হবে, ৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে পাট নিয়ে কবিতা পাঠের আসর হবে।’

এছাড়া ৫ ও ৭ মার্চ সিরডাপ মিলনায়তন ও ঢাকা চেম্বারে পাটের উপর সেমিনার হবে।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন অনুযায়ী ১৭টি পণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকারণে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ১০০ কোটি পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত। বিজেএমসির দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, সমূলে নির্মূল করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বেলভিত্তিক পাটক্রয় ও ডিজিটাল ক্রয় ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পাটক্রয় কেন্দ্র ১৮০টি থেকে কমিয়ে ৭৩টি করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে পাটের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

মির্জা আজম বলেন, পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও আধুনিকায়নের ধারা বেগবান করা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধির ব্যাপক প্রচারণার লক্ষ্যে জাতীয় পাট দিবস পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।