‘অর্জিত রাজস্ব দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন’

চলতি অর্থ বছরের রাজস্ব আয়ের পরিমাণে ঘাটতি। প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আয় হয়েছে। তারপরেও আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট কমিশনারদের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন হবে না ধরে নিয়েই আদায়ের তাগিদ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নির্বাচনী বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ভালো হওয়ায়, এ বছর সরকারের ব্যয়ের খাত কাটছাঁট হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয়ের খাত কাটছাঁট করা না হলে অর্জিত রাজস্ব দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরই রাজস্ব বোর্ডকে অতিরিক্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয় সরকার। তবে অধিকাংশ সময় রাজস্ব আহরণ সন্তোষজনক না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে পুননির্ধারণ করা হয়। গত বছরও শেষ পর্যায়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছিলো।

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের কথা ভেবে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেও ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এনবিআরকে ২লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। তবে ভ্যাট আইন ২ বছরের জন্য স্থগিত করায় ধরে নেয়া হয়েছিল কমানো হবে লক্ষ্যমাত্রা।

কিন্তু এনবিআর বলছে, নির্বাচনী বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের চাপ থাকায় এবার ব্যয় কাটছাঁট করতে চায়না সরকার।

এলটিউ কমিশনার মতিউর রহমান বলেন, যে বছর ব্যয়ের খাত কমানো হয় সে বছর আয়ের খাতটাও কমিয়ে সমন্বয় করা হয়। সরকার ব্যয়ের খাত কমাতে পারবে না। কারণ, দৃশ্যমান উন্নয়নের অনেক কাজ করছে। ব্যয়টা কোথা থেকে করবে যদি রেভিনিউটা না আসে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে, রিভাইস হবে না।

সাত মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আহরণ করেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। সাত মাসে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, করপোরেট খাতই করের একটা বিশাল উৎস। ব্যাংকিং খাত… বাস্তবে তার লাভ কত হবে বা কতটা সে পারফর্ম করতে পারবে তার উপরে এডিপি। এখান থেকেও রকার রেভিনিউ’র একটা অংশ পায়। দেখতে হবে যে, এডিপির কোন প্রকল্পটা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সিপিডির সিনিয়র ফেলো গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা যে ৩৪ শতাংশ তার বিপরীতে এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা অনেক পেছনে। এটি দিয়ে কিভাবে রাজস্বের এই ঘাটতি পূরণ হবে এবং একই সাথে বাজেট বাস্তবায়ন কিভাবে হবে সেটি চিন্তার বিষয়।