আত্মঘাতী অভিনেত্রীর ‘অভিশাপেই’ শ্রীদেবীর মৃত্যু!

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর থেকে সবাই জানে অভিনেত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার দেবর সঞ্জয় কাপুর দাবি করলেন, শ্রীদেবীর কোন হৃদরোগ ছিল না। তার এ মন্তব্যের পরই বলিউড কুইনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। 

ঠিক ৩৬ বছর আগের ঘটনা। ১৯৮২ সাল। মীরাটের তরুণ বনি কাপুর বলিউডে প্রযোজক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন বেশিদিন হয়নি। অবশ্য ততদিনে তার বাবা সুরিন্দর কাপুরের ‘বিএসকে মুভিজ প্রোডাকশন’ হাউসের রমরমা। পশ্চিম আন্ধেরিতে বিশাল শুটিং স্পটের মালিকানা- একের পর এক হিট চলচ্চিত্র আসছে প্রোডাকশন হাউসটি থেকে।

এরমধ্যেই একটি অঘটন ঘটে। বিএসকে মুভিজের ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রের এক অভিনেত্রী মাধুরা রেড্ডি (১৯) মুম্বাইয়ে নিজের ভাড়া বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। ‘শেষ চিঠি’তে তিনি তার মৃত্যুর জন্য ছেলেবন্ধু, বাবা-মাসহ অনেকেই দায়ী করেছিলেন। সেই চিঠিতে উল্লেখ ছিল বনি কাপুরের নামও। তবে বিএসকে মুভিজের ভবিষ্যত কর্ণধারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করে যাননি তিনি। চিঠিতে নির্মিতব্য ‘ওহ সাত দিন’ চলচ্চিত্রে পছন্দসই চরিত্র না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করেছিলেন তিনি। আর ওই চিঠিতেই আত্মঘাতী ওই নায়িকা সুইসাইড নোটে লিখে গিয়েছিলেন নানা অভিশাপ বাণী। এর মধ্যে একটি ছিল- যারা তার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তারা কেউই ‘ছেলেমেয়ের সাফল্য’ দেখে যেতে পারবেন না।

অভিমানী মাধুরার সেই শেষ চিঠিটি তখন কেউই আমলে নেয়নি। স্বভাবতই বনি কাপুর ও বিএসকের কাছেও তা পায়নি সামান্য গুরুত্ব।  তবে বিষয়টি তখন সংবাদমাধ্যমে সাড়া ফেলেছিল বেশ। কারণ মাধুরা ততদিনে দক্ষিণী সিনেমায় বেশ সাড়া ফেলেছিলেন।

চিঠিটির কথা কেউই পুনরায় হয়তো ভাবতেন না- যদি না বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরের প্রথম ছবিটি মুক্তির আগে মোনা কাপুরের মৃত্যু না হতো। ২০১২ সালের ২৫ মার্চ মারা যান বনির প্রথম স্ত্রী মোনা। তার মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ছেলে অর্জুন কাপুরের প্রথম ছবি ‘ইশকজাদে’ ছিলো মুক্তির অপেক্ষায়। ছেলের সুকীর্তি দেখে যেতে পারেননি মা। আর সাবেক স্ত্রীর মৃত্যুতে ছেলের সাফল্য উদযাপন করতে পারেননি বাবা বনি কাপুর।

তখনও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল মাধুরার ওই চিঠিটির কথা। আর কাকতালীয়ভাবে মোনার মৃত্যুর ছ’বছর পর গতরাতে (২৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার) হঠাৎ মারা গেলেন বনির দ্বিতীয় স্ত্রী শ্রীদেবী। এমন এক সময়ে ভারতের ‘প্রথম বিউটিকুইন’ খ্যাত এই অভিনেত্রী মারা গেলেন যখন বনি ও শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবীর প্রথম ছবি ‘ধড়ক’ মুক্তির অপেক্ষায়।

ভারতের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার ব্লগে এই ঘটনাটিই লিখেছেন সাংবাদিক বিনিতা দাওরা নানগিয়া। তিনি লিখেছেন, মাঝে মাঝেই প্রকৃতি আমাদের বিভিন্ন অমিমাংসিত ধাঁধার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তবে কি আত্মঘাতী অভিনেত্রী মাধুরা রেড্ডির ‘অভিশাপেই’ শ্রীদেবীর মৃত্যু!

সাংবাদিক বিনিতা দাওরা শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবরের সঙ্গে আরো কয়েকটি ঘটনাকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বনির প্রথম স্ত্রী মোনাও হয়তো চায়নি বনির চার ছেলেমেয়ের সংসারে থাকুন শ্রীদেবী। এমনিতেও ১৯৯৬ সালে মোনাকে ছেড়ে বনি যখন শ্রীদেবীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তখন থেকেই নিত্য দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে বাস ছিল তাঁর। মৃত্যুর আগেও প্রায়শই শ্রীদেবীকে অভিসম্পাত করতেন মোনা। সেই মোনাই কি তাঁর ভবিতব্যের সঙ্গী করলেন শ্রীদেবীকেও! না কি এটি কেবলই বনির নিয়তি!