শ্রীদেবীর বলিউড সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্প!

১৯৭৮ সালে নায়িকা বলিউডে অভিষেক হয়েছিলো মায়াবী চোখ আর মিষ্টি হাসির নায়িকা শ্রীদেবীর। শুধু হিন্দিতেই নয়, বরং তামিল তেলেগুসহ ভারতীয় নানা ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। কোন সুনির্দিষ্ট নায়কের সমর্থন ছাড়াই অনেক সিনেমা ব্যবসা সফল হয়েছিলো তাঁর অভিনয় গুনে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে যখন পুরুষ অভিনেতাদের তুমুল দাপট এবং কাহিনি ছিলো নায়ক নির্ভর ঠিক সেই সময়েই শ্রীদেবী অভিনেত্রী হিসেবে অনেক সিনেমাকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিনয় তাকে পরিণত করেছিলো প্রবল জনপ্রিয় অভিনেত্রীতে। মূলত এসব কারণে তাকেই ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রথম নারী সুপারস্টার মনে করেন অনেকে।

নায়িকা হিসেবে ৭৮ সালে হলেও তার আগে থেকেই অভিনয় করছিলেন বহু ভক্তের হৃদয়ে দেবীর আসন পাওয়া শ্রীদেবী।মূলত অভিনয়জীবনে তার শুরু হয়েছিলো শিশুকালেই, মাত্র চার বছর বয়সে। আর মোট প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অভিনয় করেছিলেন প্রায় দেড়শ সিনেমায়। যার মধ্যে রয়েছে বক্স অফিস কাঁপানো মিস্টার ইন্ডিয়া, চাঁদনী, চালবাজ ও সাদমাসহ জনপ্রিয় অনেক সিনেমা। তাঁর বিখ্যাত সিনেমা মিস্টার ইন্ডিয়ায় একজন রিপোর্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। বহুমাত্রিক এই অভিনেত্রী মাঝে একবার বিরতিও নিয়েছিলেন তার কাজে।

১৯৯৭ সালে যুদাই ছবির মুক্তির পর চলচ্চিত্র শিল্প থেকে লম্বা সময়ের জন্য বিদায় নেন তিনি। পরে ফিরে আসেন ২০১২ সালে ইংলিশ ভিংলিশ ছবির মাধ্যমে। এ ছবিতে একজন মধ্যবয়সী নারী ইংরেজী ভাষা শিখছে এমন চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। ২০১৩ সালে তাকে পদ্ম শ্রী পদকে ভূষিত করে ভারত সরকার।

স্বামী বনি কাপুর ও কন্যা খুশীকে নিয়ে দুবাইতে গিয়েছিলেন একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য। সেখানে হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন অসংখ্য ব্যবসা সফল ছবির এই নায়িকা। মৃত্যুকাল তাঁর বয়স ছিলো মাত্র ৫৪ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক ছড়িয়ে পড়েছে তার সহকর্মী শিল্পী ও ভক্তদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বার্তা দিচ্ছেন বলিউড শিল্পীরা সহ অনেকেই। অভিনেত্রী প্রীতি জিনটা টুইট বার্তা বলেছেন, “…আপনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন”। শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও।

অভিনেত্রী কাজল লিখেছেন, “শোকাহত। তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তার কাছ থেকে অনেক শিখেছি”।