ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার একটি বিষয়ের প্রশ্ন পুরোপুরি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর ওই পরীক্ষাটি বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে পরীক্ষা মূল্যায়ন কমিটি। রোববার বিকেলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

কমিটি কোন বিষয়ের পরীক্ষাটি বাতিল করার সুপারিশ করবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা গেলেও সেটি বাংলা প্রথম বা দ্বিতীয় পত্র হতে পারে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, যেহেতু একটি পরীক্ষার প্রশ্ন পুরোপুরি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাই ওই পরীক্ষাটি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে। সেভাবেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আজকের সভার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সবাই সম্মতি দিলে পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ ছাড়া যেসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আংশিক ফাঁস হয়েছে সেসব পরীক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে ওই সদস্য বলেন, সেগুলোও আমরা মূল্যায়ন করেছি। সেগুলো পরীক্ষা শুরুর অল্পকিছু সময় আগে ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষায় এগুলোর প্রভাব পড়েনি। তাই ওই পরীক্ষাগুলোর বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।

এরআগে ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের সভা শেষে কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেছিলেন, যদি ফাঁস প্রশ্নের সঙ্গে নৈর্ব্যক্তিক অংশটুকু মিলে যায় তবে আমরা শুধু নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করবো। যদি সেসব প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা এক দুই ঘণ্টার আগে ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে, পরীক্ষা শুরুর পরে প্রশ্নফাঁস হলে তা আমলে নেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্র বিষয় দিয়ে শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষা। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। পরীক্ষায় মোট ১২টি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে।