চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হলেন রংপুরের সাবেক মেয়র ঝন্টু

চির বিদায় নিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রয়াত হন তিনি।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ২৬ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় আনা হয়। এর আগে রংপুরের সেন্ট্রাল ক্লিনিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ঝন্টু সাহেবের বাম হাত ও পা অনুভূতিহীন হয়ে গেছে।

১৯৫২ সালের ৭ জুলাই রংপুরের ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে দুটি বিষয়ের ওপর স্টার মার্ক নিয়ে মেট্রিক প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন এবং প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন ও রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিকম পাস করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নিজের জীবন বাজি রেখে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেন। শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু ৮০ দশকের শুরু থেকে রাজনীতিতে জড়িত।

তার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে তিনি ধীরে ধীরে মাঠ পর্যায় থেকে ১৯৮৭ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পৌরসভার চেয়ারম্যান  থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১২ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং যথাক্রমে দেশের দশম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি যিনি একাধারে উপজেলা, পৌরসভা, সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়র নির্বাচিত হন।