ঘরে পুলিশ কনস্টেবলের জুলন্ত লাশ, পাশে রাখা আত্মহত্যার চিরকুট!

ময়মনসিংহ শহরের জামতলা মোড় ও তিনকোনা পুকুরপাড়ের মাঝামাঝি এলাকা থেকে শনিবার রাত ৮টায় নূরে আলম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংসারে অভাব-অনটন এবং দুই ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা না পাওয়াকে আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করে ‘সুইসাইড নোট’ লিখে গেছেন ময়নমসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ কনস্টেবল নূরে আলম!

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কনস্টেবল নূরে আলমের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত ছিলেন। শনিবার সারাদিন নূরে আলম থানায় না আসায় পুলিশ তার সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় নুরে আলমের বাসায় পুলিশ পাঠান।

সুইসাইড নোটের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দুই ব্যক্তির কাছে নিহত কনস্টেবল প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকা পেতেন। দেই, দিচ্ছি করেও তারা অনেক দিন ধরে তার পাওনা টাকা দিচ্ছিলো না। ফলে মানসিক হতাশা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই কনস্টেবল। এ সময় পুলিশ দরজা-জানালা বন্ধ পায়। এক পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নূরে আলমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় এক চিরকুটে ‘মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ বলে লেখা ছিল।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, সুইসাইড নোটের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যেই নাহিদ আহমেদ রায়হান নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে স্থানীয় শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নূরে আলমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

শনিবার রাতে নগরীর জামতলা পোড়াবাড়ি এলাকার নিজ বাসা থেকে নূরে আলমের ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করার সময় তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন বাসায় ছিলেন না।