‘মার্চেই ঘষিত হবে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, তিনটি সূচকেই এগিয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এখন শুধু একটি ঘোষণার অপেক্ষা। ঘোষণার পর নানা আয়োজনে দেশজুড়ে এ স্বীকৃতি উদযাপন করা হবে- এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সচিবালয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ উদযাপনে পরিকল্পনা গ্রহণে এক সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া সারাদেশে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা হবে। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন চলবে এক সপ্তাহ ধরে। আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবা নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সব শর্ত পূরণ হওয়ায় বিশ্ব ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল মার্চ মাসে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করবে। স্তর পরিবর্তনের সময় পাওয়া যাবে তিন বছর, ২০২৪ সালে তা কার্যকর হবে। সরকারের এ অর্জন আনন্দঘন পরিবেশে সারাদেশ উদযাপন করা হবে।

সভায়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রত্যেক জেলায় উদযাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবারও ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। আজ (বৃহস্পতিবার) খাদ্য ভবনে বাংলাদেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর তিনমাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সাময়িক বন্ধ ছিলো। তবে বর্তমানে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকায় আবারও এ সুবিধা চালু হচ্ছে। প্রতিটি হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল প্রতি মাসে পাবে। এতে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

কামরুল ইসলাম জানান, এ মুহূর্তে সরকারের কাছে ১৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। যারমধ্যে ১০ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন হলো চাল। এ সপ্তাহের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ হয়ে যাবে।